১২০ ডলার পেরোল তেলের দাম, যুদ্ধের আঁচে বাড়বে নিত্যপণ্যের খরচ!

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘনীভূত হতেই বিশ্ববাজারে ফের অস্থিরতা—অপরিশোধিত তেলের দাম ২০২২-এর পর সর্বোচ্চ স্তরে। ব্যারেল পিছু দাম ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় আশঙ্কা বাড়ছে, খুব শিগগিরই এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে পেট্রোল-ডিজেল থেকে শুরু করে পরিবহণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে।

সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালী—বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ। ইরান-কে ঘিরে চলা সংঘাতের জেরে এই প্রণালী দিয়ে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।

তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম প্রায় ২.৫ শতাংশ বেড়ে ১২১ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বেড়ে হয়েছে ১০৮.৩৫ ডলার। এই ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকলে খুব তাড়াতাড়ি তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১৫০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে গত মাসে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দাম ১১০ ডলার ছুঁয়েছিল। পরে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও আংশিকভাবে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় কিছুটা কমেছিল দাম। কিন্তু বর্তমানে ফের উত্তেজনা বেড়েছে—প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ, আর কোনও স্থায়ী সমাধানের ইঙ্গিত নেই। পালটা হুঁশিয়ারিতে জড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলি।

এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলিতে। ভারত-এর মতো দেশে, যেখানে জ্বালানির বড় অংশই আমদানি করতে হয়, সেখানে চাপ আরও স্পষ্ট। তেলের দাম বাড়লে তেল বিপণন সংস্থাগুলির উপর চাপ তৈরি হয় খুচরো দাম বাড়ানোর জন্য। ফলে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল।

এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়বে পরিবহণ খরচ—বিমান ভাড়া থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহণ সব ক্ষেত্রেই। শিল্পক্ষেত্রেও প্রভাব পড়বে—রং, টায়ার, রাসায়নিকসহ একাধিক উৎপাদন খাতে খরচ বাড়বে। শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি খরচের বোঝা গিয়ে পড়বে সাধারণ মানুষের উপরই।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা স্পষ্ট—যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে শুধু জ্বালানি নয়, গোটা অর্থনীতিতেই মূল্যবৃদ্ধির ঢেউ ছড়িয়ে পড়বে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত