নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম হু হু করে বাড়বে—এই আশঙ্কায় যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছিল, ঠিক তখনই বড় বার্তা দিল কেন্দ্র। আপাতত জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই বলেই জানানো হয়েছে সরকারি তরফে, ফলে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে গ্রাহকদের।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম বৃদ্ধির কোনও প্রস্তাব সরকারের কাছে নেই। মঙ্গলবার এক আন্তঃমন্ত্রক বৈঠকের পর তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে—অতএব অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।


পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে ভারতের উপরও। ইতিমধ্যেই গত ৬ মার্চ ১৪.২ কেজির গৃহস্থালী এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাসের দামও একাধিক দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পেট্রল-ডিজ়েলের দামও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
তবে কেন্দ্র জানাচ্ছে, অপরিশোধিত তেল, এলপিজি ও পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (PNG) আমদানিতে কিছু বাধা তৈরি হলেও দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গৃহস্থালির গ্যাস সরবরাহ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহের সীমা বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করা হয়েছে। হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ফার্মাসিউটিক্যাল, ইস্পাত, বীজ এবং কৃষি ক্ষেত্রেও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি জোগান নিশ্চিত করতে উদ্যোগী কেন্দ্র।


পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা মাথায় রেখে ৫ কেজির ফ্রি ট্রেড এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি জটিল হলেও আপাতত দেশে পেট্রল-ডিজ়েলের দামে বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই—এমনটাই স্পষ্ট বার্তা কেন্দ্রের।








