ভোটের পর অনিয়মের অভিযোগে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক বুথে পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২ মে ফের ভোটগ্রহণ হবে মগরাহাট পশ্চিম ও ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের নির্দিষ্ট বুথগুলিতে। কমিশনের এই পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
দ্বিতীয় দফার ভোটে ইভিএম বিকৃতি, নজরদারির ঘাটতি এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই বিশেষ পর্যবেক্ষককে দিয়ে স্ক্রুটিনি করানো হয়। রিপোর্টের ভিত্তিতেই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে EC।


কোথায় কোথায় রিপোল?
মগরাহাট পশ্চিম (১৪২ নম্বর আসন)-এর যেসব বুথে পুনর্নির্বাচন হবে:
- উত্তর ইয়ারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ২)
- নজরা প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ১ ও ২)
- দেউলা প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ১)
- ঘোলা নয়াপাড়া গার্লস হাই মাদ্রাসা (রুম ২)
- একতারা মালয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ১ ও ২)
- একতারা মালয়া ধোড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ১)
- বাহিরপুয়া কুরকুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ১, ২, ৩)
ডায়মন্ড হারবার (১৪৩ নম্বর আসন)-এর যেসব বুথে রিপোল:
- বাগদা জুনিয়র হাই স্কুল
- চাঁদা প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ২)
- হারিদেবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়
- রয়নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়
কেন এই সিদ্ধান্ত?
সূত্রের দাবি, একাধিক বুথে ইভিএমে সেলোটেপ বা ব্ল্যাকটেপ লাগানোর অভিযোগ ওঠে। কোথাও আবার ভোট চলাকালীন মোবাইল নিয়ে বুথে ঢুকে ছবি বা ভিডিও করার ঘটনাও সামনে আসে। এই সব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তদন্ত শুরু করে কমিশন।


দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সরাসরি রিপোর্ট চান রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল এবং বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত-র কাছ থেকে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে একাধিক অসঙ্গতির ইঙ্গিত মেলায় দ্রুত রিপোলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সূত্রের খবর, মোট ৩০টির বেশি বুথে পুনর্নির্বাচনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল—যার মধ্যে কিছু বুথে আপাতত কমিশন অনুমোদন দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভোট-পরবর্তী এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াল। এখন নজর ২ মে—পুনর্নির্বাচনের ফলাফল কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই দেখার।








