ভোট মিটতেই সামনে এল বিস্ফোরক তথ্য—স্ট্রংরুম বিতর্কের পর এবার বুথস্তরের অনিয়ম ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠল। ফলতা, ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাট পশ্চিমে একাধিক বুথে পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সূত্রের দাবি, শুধু ইভিএমে টেপ লাগানোর অভিযোগই নয়, কিছু বুথে নজরদারির ক্যামেরাও নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রেই অভিযোগ সবচেয়ে গুরুতর। মোট ২৩৮টি বুথের মধ্যে একাধিক জায়গায় ১০০ শতাংশ ভোট পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। ভোটের দিন থেকেই নানা অভিযোগ জমা পড়েছিল। সন্ধ্যা নাগাদ গোটা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের দাবি ওঠে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে খোদ জ্ঞানেশ কুমারের নির্দেশে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত ঘটনাস্থলে যান এবং প্রাথমিক তদন্তে একাধিক অসঙ্গতির ইঙ্গিত পান।


কী কী অভিযোগ উঠেছে?
তদন্তে উঠে এসেছে, কিছু বুথে ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরা বন্ধ হয়ে গেলেও কন্ট্রোল রুমে তার কোনও সংকেত পৌঁছায়নি। কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে নেটওয়ার্ক সমস্যার কথা। তবে অভিযোগ, এই সুযোগেই অনিয়মের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
প্রিসাইডিং অফিসারের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে দেখা গিয়েছে, দুপুর ১টা পর্যন্ত তিনি জানিয়েছেন যে ইভিএম থেকে টেপ সরানো হয়েছে। কিন্তু তার আগেই প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পড়ে যায়। অভিযোগ উঠছে, সেই সময় ভোটারদের সামনে একাধিক বিকল্প না থাকার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
কোথায় কত বুথে রিপোলের প্রস্তাব?
সূত্রের খবর, ফলতায় প্রায় ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবার-এ চারটি বুথ এবং মগরাহাট পশ্চিম-এ ১১টি বুথে রিপোলের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।


বিশেষ পর্যবেক্ষক আগেই জানিয়েছিলেন, তদন্ত সম্পূর্ণ হলে বিস্তারিত রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে EC।
সব মিলিয়ে, ভোট-পরবর্তী এই রিপোর্ট রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়ে দিল। এখন নজর কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে—রিপোল হলে তার প্রভাব কতটা পড়বে, সেটাই বড় প্রশ্ন।







