এক মাসের নীরবতা ভেঙে অবশেষে মুখ খুললেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। স্বামী রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এতদিন প্রকাশ্যে কিছু বলেননি তিনি। কিন্তু দুর্ঘটনার এক মাস পূর্তিতে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না—বারবার একটাই কথা, “আমি আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে হারিয়েছি।”
গত মাসে শহরের বাইরে শুটিং চলাকালীন সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয় রাহুলের। সেই ঘটনার পর থেকে শোকের ছায়া নেমে আসে টলিপাড়ায়, কলকাতা ছাড়িয়ে দেশের নানা প্রান্তে। অথচ এই পুরো সময়টা প্রায় সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁকে দেখা গিয়েছে শ্মশান থেকে থানার পথে, কখনও শ্বেতবসনা, কখনও কিশোর ছেলে সহজের হাত ধরে—কিন্তু মুখে কোনও কথা শোনা যায়নি।
এই নীরবতার মধ্যেই তিনি নেপথ্যে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে টলিউডের একাধিক শিল্পীকে একজোট করার উদ্যোগও ছিল তাঁর। শোকের মধ্যেও দায়িত্ব সামলে ধীরে ধীরে কাজে ফিরেছেন তিনি।
অবশেষে এক মাস পর, ২৯ এপ্রিল, সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর কথায়, রাহুল শুধু স্বামী ছিলেন না—ছিলেন জীবনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গী, বন্ধু, ভরসা। এই শূন্যতা যে কোনও ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, তা স্পষ্ট তাঁর প্রতিটি বাক্যে।
একটি দুর্ঘটনা কীভাবে মুহূর্তে বদলে দিতে পারে একটি পরিবারের জীবন, তার নির্মম উদাহরণ হয়ে রইল এই ঘটনা। প্রিয়াঙ্কার কণ্ঠে তাই আজও শোনা যায় একই আর্তি—একজন সঙ্গীকে হারানোর যন্ত্রণা, যা সময়ও সহজে মুছতে পারবে না।



