সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন (Delimitation) নিয়ে কেন্দ্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-কে ফের চিঠি দিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge)। বৃহস্পতিবারের চিঠিতে দ্রুত সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর প্রস্তাব, আগামী ২৫ বছর রাজ্যভিত্তিক লোকসভা আসনের সংখ্যা পরিবর্তন করা যাবে না এবং মোট আসন ৫৪৩-তেই রাখতে হবে।
খাড়গের দাবি, ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত কেন্দ্রের প্রস্তাবগুলি আগে সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিতে হবে। বিষয়গুলি বিস্তারিত ভাবে পর্যালোচনা করার জন্য তাঁদের পর্যাপ্ত সময়ও দিতে হবে। তাঁর মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা জরুরি।
কংগ্রেস সভাপতির আরও প্রস্তাব, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ কার্যকর করা হোক। খাড়গে জানিয়েছেন, এই দাবিতে গত ১৬ জুলাইও প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন তিনি। এবার সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju) ফের সংসদ বসার সম্ভাবনার কথা বলায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সরব হল কংগ্রেস।
খাড়গের আশঙ্কা, এপ্রিলের মতো কোনও সিদ্ধান্ত ফের বিরোধীদের উপর ‘জোর করে’ চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে। তাই আগে থেকেই কেন্দ্রকে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই অবস্থানের ফলে ডিলিমিটেশন ইস্যুতে কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে ডিলিমিটেশন বিল দ্রুত পাশ করানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্র বলে বিরোধীদের অভিযোগ। সদ্য শেষ হওয়া বাদল অধিবেশনে তা সম্ভব হয়নি। তবে সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর বক্তব্যে ফের অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
রিজিজুর বক্তব্য, অধিবেশন এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়নি। তাই প্রয়োজন হলে সরকার যে কোনও সময় ফের অধিবেশন ডাকতে পারে। বিশেষ অধিবেশন নিয়ে সরাসরি কোনও ঘোষণা না করলেও তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, ১৩ অগস্ট লোকসভা ও রাজ্যসভা (Rajya Sabha)—দুই কক্ষই অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি করা হয়েছিল। সাধারণত এর পর কয়েক দিনের মধ্যেই অধিবেশন আনুষ্ঠানিক ভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বাদল অধিবেশন সমাপ্তির বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি।
এর আগে বাজেট অধিবেশন ১৮ এপ্রিল শেষ হওয়ার পর ২০ এপ্রিল সেটি আনুষ্ঠানিক ভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। সংসদীয় রীতিতে অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি হয়ে গেলেও রাষ্ট্রপতির তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আইনিভাবে সেটি শেষ হয়েছে বলে ধরা হয় না।
এই পরিস্থিতিতে রিজিজুর মন্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিরোধী শিবির। তাঁদের আশঙ্কা, প্রয়োজনে ফের সংসদ বসিয়ে ডিলিমিটেশন বিল পেশ ও পাশ করানোর চেষ্টা করতে পারে কেন্দ্র। সেই সম্ভাবনা সামনে রেখেই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে আগাম আপত্তি জানালেন খাড়গে।
ডিলিমিটেশন নিয়ে মূল বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে লোকসভায় রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন। জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে তুলনামূলক ভাবে বেশি জনসংখ্যার রাজ্যগুলি লাভবান হতে পারে এবং দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব কমতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাই ৫৪৩ আসন অপরিবর্তিত রাখার দাবিকে সামনে রেখে বিরোধীরা এখন কেন্দ্রের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে চাইছে।
আগামী দিনে কেন্দ্র ডিলিমিটেশন নিয়ে কী পদক্ষেপ করে এবং সংসদ ফের বসানো হয় কি না, তার উপরই পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই নির্ভর করবে। তবে খাড়গের চিঠি স্পষ্ট করে দিল, এই ইস্যুতে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা না হলে সংসদের ভিতরে-বাইরে বড় রাজনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে।



