পুজোমণ্ডপের আশেপাশে আমিষ বিক্রি নয়! বদলের বঙ্গে দুর্গাপুজো আয়োজকদের বার্তা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের

বাংলার দুর্গাপুজো মণ্ডপের আশেপাশে আমিষ খাবার বিক্রি ও খাওয়া বন্ধের দাবি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের, পুজো কমিটিগুলি ব্যবস্থা না নিলে হস্তক্ষেপের বার্তা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ঘিরে এবার আমিষ খাবার বিক্রি ও খাওয়া নিয়ে নতুন দাবি তুলল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (Vishva Hindu Parishad)। বাংলার পুজোকে সামগ্রিক ভাবে আমিষমুক্ত করার কথা না বললেও সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য, মাতৃপ্রতিমার পবিত্রতা বজায় রাখতে মণ্ডপের আশেপাশে কোনও ভাবেই আমিষ খাবার বিক্রি বা খাওয়া উচিত নয়। পুজো কমিটিগুলিকে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নির্গুণানন্দের দাবি, বাংলার দুর্গাপুজোয় ঐতিহাসিক ভাবে আমিষ খাবারের চল রয়েছে। তাই পুজোয় মাংস খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করার দাবি তাঁরা করছেন না। তবে প্রতিমা এবং মণ্ডপ চত্বরের পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য ওই এলাকায় আমিষ এড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।

ভিএইচপির বক্তব্য, কেউ আমিষ খাবার বিক্রি করতে চাইলে মণ্ডপের বাইরে নির্দিষ্ট জায়গায় তা করা যেতে পারে। এমন ভাবে ব্যবস্থা করতে হবে যাতে খাবারের অবশিষ্টাংশ বা বর্জ্য পুজোমণ্ডপের আশেপাশে এসে না পড়ে। সংগঠনের মতে, প্রতিমার পবিত্রতা রক্ষা করা সনাতনীদের দায়িত্ব এবং পুজো কমিটিগুলিরও সেই বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

এই দাবি না মানলে প্রয়োজনে সংগঠন ‘হস্তক্ষেপ’ করতে বাধ্য হবে বলেও জানিয়েছেন ভিএইচপির ওই নেতা। ফলে দুর্গাপুজোর আয়োজকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এই বার্তাকে নিছক পরামর্শের বদলে এক ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের একাংশ।

তবে বাংলার পুজোয় আমিষ খাবার নতুন কোনও বিষয় নয়। পুজোর দিনগুলিতে বিভিন্ন মণ্ডপের আশেপাশে ভোগের পাশাপাশি নানা ধরনের খাবারের দোকান বসে। অনেক জায়গায় দর্শনার্থীদের জন্য খাবারের আয়োজনও করা হয়। সেই প্রচলিত পুজো-সংস্কৃতির মধ্যেই মণ্ডপ চত্বরকে আমিষমুক্ত রাখার দাবি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—বাংলার দুর্গাপুজোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে থাকা এই পরিচিত স্লোগান নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সংগঠনের বক্তব্য, ধর্ম যেমন ব্যক্তিগত বিষয়, তেমনই উৎসবও প্রত্যেকের ব্যক্তিগত। অন্য ধর্মের মানুষ দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলে আসতে পারেন, তবে হিন্দু ধর্মের রীতিনীতি ও আচার রক্ষা করার দায়িত্ব হিন্দুদেরই বলে মত ভিএইচপির।

ভিএইচপির এই অবস্থান সামনে আসার পর দুর্গাপুজোর আয়োজন, মণ্ডপের খাবারের দোকান এবং উৎসবের সামাজিক চরিত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। বিশেষ করে বাংলার বহুত্ববাদী পুজো-সংস্কৃতির সঙ্গে এই ধরনের বিধিনিষেধের দাবি কী ভাবে মেলে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন