নজরবন্দি ব্যুরো: এন্টালি থানার মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে রাতভর বিক্ষোভের অভিযোগে বিজেপির স্থানীয় নেতা সুদীপ রামের বিরুদ্ধে কড়া সাংগঠনিক পদক্ষেপ করল দল। তাঁকে সাময়িক ভাবে সাসপেন্ড করে সাত দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁর সাসপেনশন বহাল থাকবে।
বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির এই সিদ্ধান্তে এন্টালির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নতুন মোড় নিল। দলের উত্তর কলকাতার সাধারণ সম্পাদক সুদীপ রামের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৪ অগস্ট রাতে পদ্মপুকুর পার্কে দুর্গাপুজোর খুঁটি উপড়ে ফেলার ঘটনার প্রতিবাদে তিনি দলীয় কর্মীদের নিয়ে এন্টালি থানায় বিক্ষোভ দেখান এবং থানার মেন গেটে তালা ঝোলানো হয়।
ঘটনার সূত্রপাত পদ্মপুকুরের ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে দুর্গাপুজোর আয়োজনকে কেন্দ্র করে। ১২ অগস্ট সেখানে খুঁটিপুজো হয়েছিল। দু’দিন পর রাতে সেই খুঁটি উপড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এর পরেই বিষয়টি নিয়ে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত আরও প্রকাশ্যে আসে।
এক দিকে প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল (Priyanka Tibrewal)-ঘনিষ্ঠ শিবির, অন্য দিকে দিলীপ রাম ও সুদীপ রামের গোষ্ঠী—এন্টালি বিধানসভা এলাকায় এই দুই শিবিরের সংঘাত নতুন নয়। পুজোর আয়োজন ঘিরে বাগ্বিতণ্ডার পর সেই বিবাদই গড়ায় থানার দরজা পর্যন্ত।
১৪ অগস্ট রাতে সুদীপ রামের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা এন্টালি থানার সামনে জড়ো হন বলে অভিযোগ। থানার মূল গেটে চেন লাগিয়ে তালা ঝোলানো হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে সুদীপকে থানার পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিতেও দেখা যায় বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে রাতেই কলকাতা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তাঁদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং গেটের তালা খোলা হয়। তবে থানায় তালা কে লাগিয়েছিল, তা নিয়ে পাল্টা দাবি রয়েছে। দিলীপ-সুদীপ গোষ্ঠীর বক্তব্য, তাঁদের কেউ তালা লাগাননি; পুলিশকর্মীরাই তালা দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ঘটনার পর এন্টালি থানায় মামলা দায়ের হয়। দিলীপ রাম-সহ কয়েক জন বিজেপি কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রের খবর। এর মধ্যেই এবার দলের তরফে সরাসরি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হল সুদীপ রামের বিরুদ্ধে।
বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সুদীপকে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে হবে—কেন তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে হবে। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)-র নির্দেশেই এই পদক্ষেপ বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এন্টালির এই ঘটনাকে ঘিরে বিজেপির অন্দরের গোষ্ঠীকোন্দলও ফের সামনে এসেছে। একাধিক প্রতিবেদনে স্থানীয় বিধায়ক সন্দীপন সাহার নাম নিয়েও অভিযোগ উঠেছে যে তাঁর ঘনিষ্ঠরা একটি পক্ষকে ইন্ধন দিচ্ছেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলির তরফে প্রকাশ্যে কোনও নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফলে থানার গেটে তালা ঝোলানোর ঘটনাটি শুধু পুলিশি মামলাতেই আটকে রইল না, পৌঁছে গেল বিজেপির সাংগঠনিক শাস্তির স্তরেও। এখন নজর সাত দিনের মধ্যে সুদীপ রাম কী জবাব দেন এবং সেই জবাবের ভিত্তিতে রাজ্য নেতৃত্ব তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই।



