সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতের, ‘হামলা চালিয়ে চুক্তি মেনে চলার আশা করা যায় না’

সিন্ধু জলচুক্তি এখনও কার্যকর দাবি করে ভারতকে সতর্ক করলেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। পাল্টা নয়াদিল্লির বার্তা, ভারতীয় নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চললে একতরফাভাবে চুক্তি মেনে চলার প্রত্যাশা করা যায় না।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি (Indus Waters Treaty)-কে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ফের উত্তেজনা বাড়ল। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী মহম্মদ ইশাক দার (Muhammad Ishaq Dar) ভারতকে সতর্ক করে দাবি করেছেন, চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ জল থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করলে তার ‘গভীর পরিণতি’ হতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই নয়াদিল্লির এক শীর্ষ সরকারি সূত্র পাল্টা জানিয়ে দিয়েছে, ভারতীয় নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তান ভারতের কাছ থেকে একতরফাভাবে চুক্তি মেনে চলা ও তথ্য ভাগ করে নেওয়ার প্রত্যাশা করতে পারে না।

সরকারি সূত্রের বক্তব্য, জল নিরাপত্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। পাকিস্তান যদি ভারতীয় নাগরিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে নিশানা করে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে একই সঙ্গে ভারতের কাছ থেকে ‘সম্পূর্ণ ও পারস্পরিকতাহীনভাবে’ সিন্ধু জলচুক্তি মেনে চলার প্রত্যাশা করা যায় না।

ইশাক দারের বক্তব্যের পরই এই পাল্টা বার্তা এসেছে। শুক্রবার ওয়াশিংটনে একটি সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী দাবি করেন, ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি এখনও সম্পূর্ণ বৈধ, বাধ্যতামূলক এবং কার্যকর। চুক্তি স্থগিত রাখার বিষয়ে ভারতের সিদ্ধান্তও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

দারের দাবি, চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত জল থেকে তাদের বঞ্চিত করার কোনও উদ্যোগ নেওয়া হলে তার প্রভাব শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তাঁর মতে, এমন পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘গভীর পরিণতি’ ডেকে আনতে পারে।

পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন, কয়েক দশক ধরে এই চুক্তি টিকে থাকার অন্যতম কারণ ছিল দুই দেশের উপলব্ধি—কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে যুক্ত জলসম্পদকে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের ওঠাপড়ার উপর নির্ভরশীল করা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে সেই নীতিই সবচেয়ে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন দার। তাঁর বক্তব্য, পরিবর্তিত জলবায়ুর পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা, স্বচ্ছ তথ্য আদানপ্রদান এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের জল নিরাপত্তাকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইশাক দার সিন্ধু জলচুক্তির আওতায় থাকা বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাগুলির ব্যবহারের পক্ষেও সওয়াল করেছেন। তাঁর দাবি, চুক্তির নির্ধারিত কাঠামো মেনেই পাকিস্তান সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার দ্বারস্থ হয়েছে। স্থায়ী সিন্ধু কমিশন (Permanent Indus Commission), নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ (Neutral Expert) কিংবা সালিশি আদালতের (Court of Arbitration) মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা কোনও সংঘাতমূলক পদক্ষেপ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে দারের বক্তব্যের পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে ভারতের গোয়েন্দা সূত্র। CNN-News18-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় সূত্রটির দাবি, পাকিস্তান নিজেই সিন্ধু জলচুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা দুর্বল করেছে। তাদের অভিযোগ, চুক্তির ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক কাঠামো পাকিস্তান একাধিকবার এড়িয়ে গিয়েছে।

ফলে জলবণ্টন নিয়ে পুরনো দ্বন্দ্ব ফের কূটনৈতিক চাপের কেন্দ্রে চলে এসেছে। পাকিস্তান যেখানে চুক্তির বৈধতা ও নির্ধারিত জল পাওয়ার অধিকারকে সামনে রাখছে, সেখানে ভারত নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পারস্পরিকতার প্রশ্নটিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। জল নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে নয়াদিল্লির এই অবস্থান ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন