নজরবন্দি ব্যুরো: কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি আফতাব আনসারির কুঠুরি থেকে তল্লাশিতে উদ্ধার হল একাধিক স্মার্টফোন, আইফোন, রাউটার, ওয়াইফাই হটস্পট এবং ১২৮ জিবির পেনড্রাইভ। মিলেছে তিনটি জিও সিম কার্ড, কার্ড রিডার, OTG ও হেডফোনও। পাশাপাশি ৫০০ টাকার নোটে মোট ৩১ হাজার টাকা উদ্ধারের ঘটনায় জেল নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ২৩ অগস্ট দমদম সংশোধনাগারের ডিআইজি-র নেতৃত্বে প্রেসিডেন্সি জেলে এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শুরু হয়ে রাত ৮টা ১০ মিনিট পর্যন্ত চলে অভিযান। জেলের একাধিক কুঠুরিতে তল্লাশি হলেও বিশেষ নজর ছিল আফতাব আনসারির সেলে।
২০০৩ সালের কলকাতার আমেরিকান সেন্টারে হামলার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত আফতাব আনসারি বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। প্রথমে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) সেই সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। খাদিম কর্তা অপহরণ মামলাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল।
তল্লাশিতে আফতাবের কুঠুরি থেকে তিনটি স্মার্টফোন, একটি আইফোন, তিনটি জিও সিম, দু’টি জিও রাউটার এবং একটি ওয়াইফাই হটস্পট উদ্ধার হয়েছে বলে জেল সূত্রের খবর। এর সঙ্গে পাওয়া গিয়েছে দু’টি কার্ড রিডার, ১২৮ জিবির একটি পেনড্রাইভ, তিনটি OTG এবং একটি হেডফোন।
সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এই যোগাযোগের সরঞ্জামগুলি ঘিরেই। দীর্ঘদিন ধরে জেলে বসে বাইরে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ আফতাবের বিরুদ্ধে রয়েছে। এবার এতগুলি ইলেকট্রনিক ডিভাইস একসঙ্গে উদ্ধারের পর জেলের ভিতর থেকে তিনি কোনও যোগাযোগের নেটওয়ার্ক চালাচ্ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে আরও দাবি, আফতাবের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে যোগাযোগ রাখার অভিযোগও রয়েছে। জঙ্গি ও নাশকতামূলক কার্যকলাপের সঙ্গে তাঁর কোনও বর্তমান যোগ রয়েছে কি না, উদ্ধার হওয়া ডিভাইসগুলি ব্যবহার করে কোনও যোগাযোগ চালানো হত কি না—তদন্তকারীরা সেই দিকগুলিও খতিয়ে দেখছেন।
তবে তদন্তের অন্যতম বড় প্রশ্ন, এতগুলি মোবাইল, রাউটার, সিম, পেনড্রাইভ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম কী ভাবে প্রেসিডেন্সি জেলের মতো উচ্চ নিরাপত্তার সংশোধনাগারের ভিতরে পৌঁছল। দিনের পর দিন সেগুলি নজরদারির বাইরে রইল কীভাবে, সেই প্রশ্নও উঠেছে।
৩১ হাজার টাকা উদ্ধারের বিষয়টিও তদন্তকারীদের নজরে। ৫০০ টাকার নোটে থাকা ওই নগদ অর্থ আফতাবের কাছে কী ভাবে এল, তার উৎস কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলের ভিতরে নিষিদ্ধ সামগ্রী ও নগদ টাকা পৌঁছে দেওয়ার ঘটনায় কারা বিভাগের কোনও কর্মী বা অন্য কেউ জড়িত কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
এর আগে ২০ অগস্ট রাতেও প্রেসিডেন্সি জেলে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। রাত পৌনে ৮টা থেকে হওয়া সেই অভিযানে বিচারাধীন বন্দি আব্দুল মইনুদ্দিনের কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন ও সিমকার্ড উদ্ধার হয়।
পরপর দু’টি তল্লাশিতে জেলের ভিতর থেকে মোবাইল ও যোগাযোগের সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় প্রেসিডেন্সি জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। দুই ঘটনাতেই কারা কর্তৃপক্ষ হেস্টিংস থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। এখন তদন্তের মূল নজর—এই নিষিদ্ধ ডিভাইসগুলি জেলের ভিতরে ঢুকল কীভাবে এবং সেগুলি ব্যবহার করে বাইরে কী ধরনের যোগাযোগ চালানো হয়েছিল।



