বুধবারের ভয়াবহ হড়পা বানের ক্ষত এখনও শুকোয়নি। তার মধ্যেই নেপালকে নতুন করে সতর্ক করল চিন। লেন্ডে খোলা নদীর অববাহিকায় হিমবাহ ধসে তৈরি হওয়া একটি অস্থায়ী হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ যে কোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে বেজিং। তবে চিনের হিসাব অনুযায়ী, বাঁধ ভেঙে গেলেও জলপ্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৫০০ ঘনমিটারের মধ্যে থাকবে, ফলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা তুলনামূলক কম।
নেপালের বিদেশ মন্ত্রককে পাঠানো বার্তায় চিন জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের গোড়ায় নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বানের পর এই অস্থায়ী হ্রদটির সৃষ্টি হয়েছে। গত দু’দিন ধরে হ্রদের জলের রং ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে। চিনের মতে, এটি প্রাকৃতিক বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ার ইঙ্গিত হতে পারে।
হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে প্রথমে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়। সেই বাঁধের পিছনেই জমতে শুরু করে জল। চিনের দিকে চোচেন নদী এবং নেপালের দিকে পুরেপু নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে এই অস্থায়ী হ্রদটির অবস্থান বলে জানানো হয়েছে।
চিনের জলসম্পদ মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত হ্রদে প্রায় ২৫ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল সেখানে জমতে পারে। ফলে প্রাকৃতিক বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ও উপগ্রহের সাহায্য নিচ্ছে চিন। হ্রদের জলস্তর, বাঁধের পরিস্থিতি এবং আশপাশের নদীগুলির গতিপ্রকৃতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। চিনের তরফে নেপালকে সতর্ক করা হলেও একই সঙ্গে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা কম বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।
বাঁধের কোনও অংশ ভেঙে গেলে সম্ভাব্য জলপ্রবাহের পরিমাণ নিয়েও হিসাব করেছে চিন। তাদের অনুমান, সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ ঘনমিটার জল নদীতে নেমে যেতে পারে। তবে সেই জল নদীর পাড় ছাপিয়ে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম বলেই জানিয়েছে তারা।
ইতিমধ্যেই হ্রদ উপচে লেন্ডে খোলা ও ত্রিশূলী নদীতে জল ঢুকতে শুরু করেছে। চিনা সরকারি সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির খবর অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই ছিল। কিন্তু অস্থায়ী হ্রদের বাঁধ ভেঙে গেলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে, সেই আশঙ্কায় নেপালে সতর্কতা জারি রয়েছে।
এরই মধ্যে আগের হড়পা বানের ভয়াবহতা এখনও স্পষ্ট। বুধবারের বিপর্যয়ে নেপালে অন্তত ৫৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তিব্বতেও আরও সাত জনের মৃত্যুর খবর রয়েছে। এক দিকে চলছে উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ, অন্য দিকে নতুন করে কোনও জলবিপর্যয় তৈরি হয় কি না, তার দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।
সব মিলিয়ে, চিনের বার্তায় একদিকে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা কম বলে আশ্বাস দেওয়া হলেও অস্থায়ী হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে পড়ার সম্ভাবনাকে হালকা ভাবে দেখছে না নেপাল। আগের বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলানোর মধ্যেই নতুন এই জলাধার ঘিরে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।



