ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস ঘিরে নতুন অভিযোগ, অভিষেকদের বিরুদ্ধে ‘দখলদারি’র দাবি বাড়িওয়ালার

ক্যামাক স্ট্রিটের তৃণমূল অফিস ঘিরে হোর্ডিং বিতর্কের মধ্যেই বাড়িওয়ালার নতুন অভিযোগ। ২০২০ সালের ভাড়ার চুক্তির শর্ত না মানা এবং দু’টি ফ্লোর দখলে রাখার দাবি, আইনি নোটিসও পাঠানো হয়েছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ক্যামাক স্ট্রিটের তৃণমূলের অফিস ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। বেআইনি হোর্ডিং নিয়ে উত্তেজনার পর এবার ওই অফিসের বাড়িওয়ালার তরফে উঠল ‘দখলদারি’র অভিযোগ। অভিযোগ, ২০২০ সালে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সঙ্গে বাড়ি ভাড়ার যে চুক্তি হয়েছিল, তার শর্ত মানা হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিল্ডিংয়ের দু’টি ফ্লোর দখল করে রাখার অভিযোগও তুলেছেন মালিকপক্ষ।

জানা গিয়েছে, ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের ওই বাড়ির মালিক রমা গোয়েঙ্কা। তাঁর কাছ থেকেই অফিসের জন্য বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। মালিকপক্ষের অভিযোগ, লিজ চুক্তিতে থাকা একাধিক শর্ত মেনে চলা হয়নি।

বাড়িওয়ালার আরও অভিযোগ, বিল্ডিংয়ের দু’টি ফ্লোর কার্যত দখল করে রাখা হয়েছে। বাড়ির মালিকের তরফে সিসির জন্য বারবার আবেদন করা হলেও তাতে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি। এমনকি মালিকপক্ষকে না জানিয়েই বিল্ডিংয়ে বিলবোর্ড লাগানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এই বাড়ি ভাড়ার চুক্তিতে বর্তমানে জেলবন্দি তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী সই করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। মালিকপক্ষের তরফে ইতিমধ্যেই আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলির বিষয়ে তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের বিলবোর্ড খোলা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা ওই বিলবোর্ড খুলতে গেলে অফিসে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয় বলে অভিযোগ।

পুলিশের অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে ঢোকার চেষ্টা করার সময় এক পুলিশকর্মীর কলার ধরে মারধর করা হয়। ঘটনায় গ্রেফতারির সংখ্যাও বেড়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় কলকাতা পুলিশের দুষ্কৃতীদমন শাখা তৌফিক নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। অশান্তিতে তাঁর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ পুলিশের। সব মিলিয়ে ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৪ জন গ্রেফতার হয়েছেন।

ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের হোর্ডিং নিয়ে কলকাতা পুরসভার বক্তব্য ছিল, সেটি বেআইনি ভাবে লাগানো হয়েছিল। তাই পুরসভার তরফে তা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই দাবি মেনে নেননি।

শেষ পর্যন্ত বিল্ডিংয়ের ছাদে উঠে তৃণমূলের হোর্ডিং খুলে দেন পুরসভার কর্মীরা। কিন্তু পুরসভার আধিকারিকরা এলাকা ছাড়ার পরই সন্ধ্যায় ফের সেখানে তৃণমূলের হোর্ডিং ঝোলানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াইও গড়ায় কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court)।

এখন হোর্ডিং বিতর্কের পাশাপাশি বাড়ির মালিকের তরফে ওঠা ‘দখলদারি’র অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করল ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায়। ২০২০ সালের ভাড়ার চুক্তির শর্ত আদৌ মানা হয়েছিল কি না, দু’টি ফ্লোর ব্যবহারের আইনি অধিকার কার এবং বিলবোর্ড লাগানোর ক্ষেত্রে মালিকপক্ষের অনুমতি ছিল কি না—আইনি প্রক্রিয়াতেই সেই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর