মাত্র ৩৬ বলে শতরান—সংখ্যাটা যতটা অবিশ্বাস্য, তার থেকেও বড় গল্প লিখল ১৫ বছরের এক কিশোর। IPL ২০২৬ মরশুমে রাজস্থানের হয়ে বৈভব সূর্যবংশী যেন নতুন করে সংজ্ঞা দিল ‘ডমিনেশন’-এর। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ-এর বিরুদ্ধে তার ব্যাট থেকে ঝড় উঠতেই থমকে গেল ম্যাচ—এবং ইতিহাস আবারও বাঁক নিল তার দিকেই।
জয়পুরের সোয়াই মানসিং স্টেডিয়ামে শনিবারের সেই রাতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় বৈভবকে। প্রথম বল থেকেই পরিষ্কার ছিল—এ দিন কোনও হিসেব-নিকেশ চলবে না। বোলারদের উপর একের পর এক চড়াও হয়ে ম্যাচটাকে একাই নিজের কব্জায় নিয়ে নিল সে। গ্যালারিতে বিস্ময়ের নিস্তব্ধতা, আর মাঝমাঠে এক কিশোরের নিখাদ দাপট—দৃশ্যটা যেন বাস্তবের থেকেও বেশি অবাস্তব।


মাত্র ৩৭ বলে ১০৩ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। এর মধ্যে ৫টি চার ও ১২টি ছক্কা—অর্থাৎ ৭২ রানই এসেছে শুধু ছক্কা থেকে। অর্ধশতরান ছুঁতে লেগেছে মাত্র ১৫ বল, আর সেঞ্চুরি—৩৬ বলে। এই ইনিংস শুধু দ্রুততার জন্য নয়, প্রভাবের দিক থেকেও আলাদা করে জায়গা করে নিল।
এই শতরান বৈভবের কেরিয়ারের দ্বিতীয়। এর আগেই সে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে নজর কেড়েছিল। ফলে IPL ইতিহাসে দ্রুততম শতরানের তালিকায় এখন প্রথম দু’টি স্থানই তার দখলে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে এই ধারাবাহিকতা ক্রিকেটবিশ্বকে কার্যত হতবাক করে দিয়েছে।
শুধু দ্রুত সেঞ্চুরি নয়, এই ম্যাচে ১২টি ছক্কা মেরে আরেকটি নজির গড়েছে বৈভব। এক ইনিংসে কোনও ভারতীয় ব্যাটারের সর্বাধিক ছক্কার রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে সে, যা আগে ছিল মুরলি বিজয়ের-এর দখলে।


এ বারের মরশুমে তার ধারাবাহিকতাও চোখে পড়ার মতো। সাত ইনিংসে একাধিক উল্লেখযোগ্য স্কোর—যা প্রমাণ করছে, এটা কোনও ‘ওয়ান-অফ’ পারফরম্যান্স নয়, বরং এক নতুন যুগের সূচনা। অল্প বয়সেই সে যে পরিণত ব্যাটিংয়ের পরিচয় দিচ্ছে, তা ভবিষ্যতের জন্য বড় ইঙ্গিত।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে IPL-এ অভিষেক করে প্রথম মরশুমেই নজর কেড়েছিল বৈভব। আর এখন দ্বিতীয় মরশুমে এসে সে যেন নিজের খেলাকে অন্য উচ্চতায় তুলে নিয়েছে। আগ্রাসন, আত্মবিশ্বাস আর নিখুঁত টাইমিং—এই তিনের মিশেলে সে হয়ে উঠছে প্রতিপক্ষের কাছে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক।
এই ইনিংস তাই শুধু এক ম্যাচের গল্প নয়—এটা IPL-এর ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যেখানে বয়স নয়, প্রতিভা আর সাহসই শেষ কথা বলে।







