মার্কিন ক্ষমতার কেন্দ্র হোয়াইট হাউসে নৈশভোজের মাঝে আচমকা গুলির আতঙ্ক—ঘটনার পর মুখ খুললেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত বন্দুকবাজ ৫০ গজ দূর থেকে দৌড়ে এসে হামলার চেষ্টা করে, হাতে ছিল একাধিক অস্ত্র। তৎপরতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেয় সিক্রেট সার্ভিস, গ্রেফতার করা হয় প্রায় ৩০ বছরের ওই যুবককে।
শনিবার রাতে আয়োজিত বার্ষিক নৈশভোজে প্রায় ২৬০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। প্রেসিডেন্টের পাশে ছিলেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। হঠাৎই গুলির শব্দে অনুষ্ঠানস্থলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে অতিথিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।


ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “খুব অসুস্থ মানসিকতার একজন লোক ছিল। ঘরটি সুরক্ষিত হলেও সে ৫০ গজ দূর থেকে দৌড়ে আসে। সিক্রেট সার্ভিস দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।” ধস্তাধস্তির সময় এক নিরাপত্তা আধিকারিক গুলিবিদ্ধ হন, তবে তিনি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিযুক্তের হাতে রাইফেল-সহ একাধিক অস্ত্র ছিল। তাঁকে লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি চালায় নিরাপত্তারক্ষীরা। অন্তত তিনটি গুলি ছোঁড়া হয় বলে জানা গেছে। পরে তাকে মাটিতে ফেলে বেঁধে ফেলে গ্রেফতার করা হয়। তবে অভিযুক্ত আগে গুলি চালিয়েছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, হোয়াইট হাউসে আরও উন্নত সুরক্ষাব্যবস্থা জরুরি। সেই প্রসঙ্গেই নতুন বলরুম তৈরির পরিকল্পনার কথা ফের উল্লেখ করেন তিনি—যেখানে থাকবে ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং বুলেটপ্রুফ কাচ। প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুট এলাকায় সেই বলরুম তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান প্রেসিডেন্ট।


এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে FBI। সংস্থার ডিরেক্টর কাশ পটেল সাধারণ মানুষকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেলও জানিয়েছেন, দ্রুত চার্জ গঠন করা হবে। হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং প্রেসিডেন্টই লক্ষ্য ছিলেন কি না—এই মুহূর্তে তা স্পষ্ট নয়।
সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প আরও জানান, গত কয়েক বছরে তাঁর উপর একাধিক হামলার চেষ্টা হয়েছে। পেনসিলভেনিয়ার ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি, যেখানে গুলি তাঁর কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। ফলে শনিবারের এই ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল আমেরিকার প্রশাসনের সামনে।







