ভোট মিটতেই বুথফেরত সমীক্ষা ঘিরে জোর জল্পনা, কিন্তু সেই হিসেবকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে নিজের অঙ্ক কষে দিলেন তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম। তাঁর দাবি, রাজ্যে ফের স্বাচ্ছন্দ্যেই সরকার গড়বে তৃণমূল—শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কবে শপথ নেবেন, তাও আগাম জানিয়ে দিলেন তিনি।
এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ফিরহাদ জানান, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস ২০২ থেকে ২২৫টির মধ্যে আসন পেতে পারে। তাঁর কথায়, “চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরবে দল।” সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮ আসন—সেই হিসাবে তাঁর পূর্বাভাস তৃণমূলের পক্ষে বড় ব্যবধানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। সম্ভাব্য শপথের দিনও জানিয়ে দিয়েছেন—“সম্ভবত ৬ মে মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন।” ভোটের ফলাফল প্রকাশের আগেই এমন নির্দিষ্ট দাবি রাজনৈতিক মহলে চর্চা বাড়িয়েছে।
বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে ফিরহাদ বলেন, এই ধরনের সমীক্ষা অনেক সময় বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে পারে না। তাঁর মতে, ভোটারদের উপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করেও তৃণমূলকে আটকানো সম্ভব নয়। “তল্লাশি, ভয় দেখানো—এসব করে লাভ নেই, বাংলার মানুষ নিজের সিদ্ধান্ত নিয়েছে,” মন্তব্য তাঁর।
ভোটের হার নিয়েও তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। প্রথম দফায় ৯৩ শতাংশের বেশি এবং দ্বিতীয় দফায় ৯২ শতাংশের উপরে ভোট পড়া প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। বরং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আতঙ্কেও অনেকেই ভোট দিতে বেরিয়েছেন বলে মত তাঁর।


তবে ফিরহাদের এই আত্মবিশ্বাসী ভবিষ্যদ্বাণীকে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। সিউড়ির প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এটাই তৃণমূলের পরাজয়ের ইঙ্গিত। আগে যেখানে ২৫০-র কথা বলা হচ্ছিল, এখন ২০২-এ নেমে এসেছে। ফলে ফলাফল কী হতে চলেছে, তা বোঝাই যাচ্ছে।” তাঁর আরও বক্তব্য, ভোটের আগে কোনও দলই হার স্বীকার করে না—জয়ের কথাই বলতে হয়।
সব মিলিয়ে, দাবি-প্রতিদাবির মাঝেই এখন নজর একটাই—৪ মে গণনার দিন। সেদিনই স্পষ্ট হবে, কার হিসেব মিলল আর কারটা ভেস্তে গেল।







