হুমায়ুনের ডিগবাজি! শর্তসাপেক্ষে তৃণমূলকে সমর্থন

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার সম্ভাবনার জল্পনায় ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র সমর্থন নিয়ে জোর রাজনৈতিক সমীকরণ—শর্ত মানলেই পাশে হুমায়ুন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ফল ঘোষণার আগেই রাজনীতিতে বড় মোড়—সমর্থনের ইঙ্গিত দিলেও একগুচ্ছ শর্ত জুড়ে দিলেন ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। নতুন দল গড়ার পর এবার তিনি জানালেন, প্রয়োজন হলে তৃণমূলকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত, তবে সেই সমর্থন পেতে হলে মানতে হবে কঠোর শর্ত।

শনিবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। তাঁর কথায়, “যে দলই সরকার গড়তে চাইবে, তাদের আমার দলের সমর্থন নিতে হবে।” তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-কে, এবং তাঁর মতে, রাজ্য রাজনীতিতে এই দলই হতে পারে ‘কিংমেকার’।

তবে সমর্থন দেওয়া এত সহজ নয় বলেই স্পষ্ট করেছেন তিনি। নাম না করেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন—তোলাবাজি, দুর্নীতি, চাকরি বিক্রির মতো অভিযোগ স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তাঁর বক্তব্য, “যারা অতীতে মানুষের সঙ্গে অন্যায় করেছে, তাদের ভুল স্বীকার করতে হবে। ভবিষ্যতে তা আর হবে না—এই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, তবেই সমর্থনের কথা ভাবব।”

আরও একধাপ এগিয়ে হুমায়ুন কবীর জানিয়ে দেন, সমর্থনের জন্য কোনও রাজনৈতিক দলের কাছে তিনি নিজে যাবেন না। বরং যাদের সমর্থন দরকার, তাদেরই তাঁর কাছে আসতে হবে। এমনকি অভিষেক ব্যানার্জি এলেও তিনি কথা শুনবেন না বলে স্পষ্ট করেন। তাঁর শর্ত—দলের সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী নিজে এসে প্রতিশ্রুতি দিলে তবেই সমর্থন মিলবে।

তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূল কোনওভাবেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। বরং তাঁর সমর্থন ছাড়া কোনও দলই ‘ম্যাজিক ফিগার’ ১৪৮-এ পৌঁছতে পারবে না। এমনকি তিনি আশঙ্কাও প্রকাশ করেন, তৃণমূল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তাঁকে জেলে পাঠানোর চেষ্টা হতে পারে।

উল্লেখযোগ্য, আগেই হুমায়ুন কবীর দাবি করেছিলেন, নওদা এবং রেজিনগর—দুটি আসন থেকেই তিনি জিতবেন। পরে রেজিনগর আসন ছেড়ে দিয়ে সেখানে তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদকে প্রার্থী করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন।

সব মিলিয়ে, ফল ঘোষণার আগেই জোট রাজনীতির ইঙ্গিত স্পষ্ট। এখন দেখার, সংখ্যার খেলায় হুমায়ুন কবীর সত্যিই ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠতে পারেন কি না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত