হায়দরাবাদে অপারেশনে ফিরল আলো, অভিষেকের উদ্যোগে নতুন জীবন দুই যমজের

জন্মান্ধ দুই যমজ শিশুর চোখে ফিরল আলো, ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচারের দায়িত্ব নিয়ে মানবিকতার নজির গড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

জন্মের পর থেকেই অন্ধকার ছিল তাদের পৃথিবী। আট মাসের দুই যমজ কন্যা—আলিফা ও রায়ানা—কখনও চোখে দেখেনি আলো। চিকিৎসার ব্যর্থ চেষ্টা, অর্থাভাব আর অনিশ্চয়তার মাঝে শেষমেশ এক মানবিক উদ্যোগই বদলে দিল তাদের ভাগ্য। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহায়তায় হায়দরাবাদের এলভি প্রসাদ চক্ষু ইনস্টিটিউটে-এ জটিল অস্ত্রোপচারের পর ফিরে এসেছে তাদের দৃষ্টি—প্রথমবারের মতো তারা দেখছে পৃথিবী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন ছিল দুই শিশু। একাধিক চিকিৎসকের কাছে গিয়েও আশার আলো মেলেনি। শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে পৌঁছন। সেখানে বিশেষজ্ঞরা জানান, উন্নত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দৃষ্টি ফেরানো সম্ভব—তবে খরচ বিপুল। নিম্নবিত্ত পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা ছিল প্রায় অসম্ভব।

এই অবস্থাতেই সামনে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেবাশ্রয়ের উদ্যোগে তিনি দুই শিশুর সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। দ্রুত ব্যবস্থা করা হয় হায়দরাবাদের নামী চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্রে অস্ত্রোপচারের। সাম্প্রতিক সেই জটিল সার্জারির পরই চিকিৎসকেরা জানান—দুই শিশুর দৃষ্টি ফিরে এসেছে।

এই সাফল্যের কথা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন অভিষেক। সেখানে তিনি লেখেন, মানবিক উদ্যোগ আর সদিচ্ছা থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। তাঁর কথায়, এটি শুধু চিকিৎসার সাফল্য নয়—দুই শিশুর হাসি আর পরিবারের স্বস্তিই প্রমাণ করে কেন এই ধরনের উদ্যোগ জরুরি।

অন্যদিকে, আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিশুদের মা। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “জন্ম থেকেই ওরা কিছুই দেখতে পেত না। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো কোনও দিনই দেখবে না। অভিষেক দাদার কাছে আবেদন করেছিলাম। তাঁর উদ্যোগেই চিকিৎসা সম্ভব হয়েছে। এখন আমার মেয়েরা দুনিয়া দেখতে পারবে—এটা ভাবতেই পারিনি।”

এই ঘটনা আবারও সামনে আনল—স্বাস্থ্য পরিষেবায় সুযোগ আর সহায়তার অভাব কতটা নির্মম হতে পারে, আর একইসঙ্গে দেখাল—সময়মতো সাহায্য পেলে জীবন কত দ্রুত বদলে যেতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন