হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছবি—আর সেই বিতর্কেই পদ খোয়াতে হল কালীঘাট থানার ওসি গৌতম দাস-কে। শনিবার তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপে নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চামেলি মুখোপাধ্যায়-কে। ভোটের আবহে এই ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি কালীঘাট থানার দায়িত্ব নেওয়ার পরই বিতর্কে জড়ান গৌতম দাস। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে পোস্ট করা একটি ছবি ঘিরেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। সেই ছবিতে দেখা যায়, পুলিশের উর্দিতে বসে তিনি একটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে আছেন। ছবির ক্যাপশন ছিল—“নতুন অ্যাসাইনমেন্টের জন্য প্রস্তুত”।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন জয়প্রকাশ মজুমদার । তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি শেয়ার করে নির্বাচন কমিশনে-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের ছবি শুধু উদ্বেগজনক নয়, আইনগত দিক থেকেও আপত্তিকর এবং দায়িত্বশীল পদে থাকা এক পুলিশ আধিকারিকের ক্ষেত্রে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিযোগের পরই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। দ্রুত তদন্তের ভিত্তিতে গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রশ্নে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কালীঘাট থানার ওসি হিসেবে দায়িত্বে আনা হয়েছিল গৌতম দাসকে। তিনি এর আগে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে কর্মরত ছিলেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই এই বিতর্ক তাঁর পদে ইতি টানল।
এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে—সোশ্যাল মিডিয়ায় আচরণ ও দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের সীমারেখা কোথায়? যদিও প্রশাসনের তরফে বার্তা স্পষ্ট—নিয়ম ভাঙলে রেয়াত নেই।



