নয়ের দশকের সেই সোনালি যুগ—নায়কের ঠোঁটে গানের জাদু, আর পর্দার আড়ালে এক কণ্ঠের জোর। Shah শাহরুখ ও অভিজিৎ ভট্টাচার্যের যুগলবন্দি একসময় বলিউডের সাফল্যের সমীকরণ ছিল। কিন্তু সেই সম্পর্কই ভেঙে যায় এক বিতর্কে, আর বছরের পর বছর কেটে গেলেও জমাট বরফ আর গলেনি—এবার সেই অভিমান নিয়েই মুখ খুললেন গায়ক।
এক সাম্প্রতিক পডকাস্টে অভিজিৎ জানান, তাঁদের দূরত্বের মূল কারণ ‘অহংকার বনাম আত্মসম্মান’। তাঁর দাবি, শাহরুখ যদি একবার ‘সরি’ বলতেন, তাহলে সম্পর্কের সব ভুল বোঝাবুঝি মিটে যেত। গায়কের কথায়, “একটা ছোট্ট ক্ষমা চাইলেই সব ঠিক হয়ে যেত। কিন্তু সেটা কখনও হল না।”


এই মনোমালিন্যের সূত্র খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় ২০০৪ সালে, ‘ম্যায় হু না’ ছবির সময়। অভিজিতের অভিযোগ, ছবিতে তাঁর গাওয়া গানের জন্য যথাযথ কৃতিত্ব দেওয়া হয়নি। সেই ঘটনাতেই তিনি অপমানিত বোধ করেন, আর সেখান থেকেই দূরত্ব বাড়তে থাকে।
অভিজিৎ আরও জানান, একসময় তিনি ভেবেছিলেন শুধু শাহরুখের জন্যই গান গাইবেন। কিন্তু সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন আর কখনও কিং খানের জন্য কণ্ঠ দেবেন না। তাঁর কথায়, “এটা অহংকারের সিদ্ধান্ত ছিল না, ছিল গভীর হতাশা থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত। আমি খুব অবহেলিত বোধ করতাম।”
তিনি এও বলেন, অন্যদের সঙ্গে মতভেদ হলেও শাহরুখ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন, কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে সেই সৌজন্য দেখানো হয়নি। এমনকি একবার আলিঙ্গন বা ক্ষমা চাওয়ার মতো ছোট পদক্ষেপই নাকি এই সম্পর্ক বাঁচাতে পারত।


নয়ের দশক ও ২০০০-এর দশকের শুরুতে ‘বাদশাহ’, ‘তওবা তুমহারে ইয়ে ইশারে’, ‘বড়ি মুশকিল হ্যায়’-এর মতো হিট গান এই জুটির জনপ্রিয়তাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। সেই স্মৃতি আজও অমলিন, কিন্তু বাস্তবে সেই জুটি আর ফিরবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
অভিমানী অভিজিতের কথায়, সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলায়, কিন্তু কিছু আঘাত থেকে যায়—আর সেই আঘাতই আজও দূরত্বের দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দুই শিল্পীর মধ্যে।







