ভোটগণনার আগে সংগঠনকে শেষ মুহূর্তে ঝালিয়ে নিতে কড়া বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি অল্প ব্যবধানে এগোলেই সঙ্গে সঙ্গে পুনর্গণনার দাবি তোলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, গণনাকেন্দ্রের কাছাকাছি হোটেল ভাড়া করে আগের রাতেই উপস্থিত থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্বকে, যাতে কোনও পরিস্থিতিতেই নজরদারিতে ঢিল না পড়ে।
শনিবার ২৯৪টি বিধানসভা আসনের কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টার ওই বৈঠকে ভোটগণনার দিন কীভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হবে, তার বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন তাঁরা। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গণনার প্রতিটি ধাপে কড়া নজরদারি বজায় রাখার উপর বিশেষ জোর দেন তৃণমূল নেত্রী।


মমতা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনও বুথে যদি ৫০০, ৭০০ বা হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজেপি এগিয়ে থাকে, তবে তাৎক্ষণিক পুনর্গণনার দাবি তুলতে হবে। তাঁর দাবি, ২০০-র বেশি আসনে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাসের মাঝেও গণনার সময় একটুও ঢিলেমি চলবে না বলেই সতর্ক করেছেন দলীয় কর্মীদের।
এছাড়াও, যেসব গণনাকেন্দ্র দূরবর্তী বা গ্রামীণ এলাকায় রয়েছে, সেখানে প্রার্থী, এজেন্ট ও কাউন্টিং কর্মীদের আগের রাতেই পৌঁছে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গণনাকেন্দ্রের কাছাকাছি হোটেল বা লজ ভাড়া করে রাত কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন মমতা, যাতে সকালে কোনওরকম দেরি না হয়। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী, সকাল ৬টার মধ্যেই এজেন্টদের গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে, যদিও গণনা শুরু হবে সকাল ৮টা থেকে।
কাউন্টিং এজেন্টদের জন্য আরও কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশও দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। প্রত্যেককে সঙ্গে নোটবুক বা ডায়েরি ও কলম রাখতে বলা হয়েছে, যাতে ইভিএম খোলার পর প্রতিটি তথ্য নথিভুক্ত করা যায়। পুরো প্রক্রিয়া জুড়ে সতর্ক ও সংঘবদ্ধ থাকার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।


দলীয় সূত্রে খবর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়ার কয়েক জন প্রার্থী ইতিমধ্যেই এই নির্দেশ মেনে গণনাকেন্দ্রের কাছে থাকার ব্যবস্থা করে ফেলেছেন। রবিবার রাত সেখানেই কাটিয়ে সোমবার ভোরেই তাঁরা গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যাবেন।
সব মিলিয়ে, ভোটগণনার আগে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব—প্রতিটি ধাপে নজরদারি নিশ্চিত করতেই এই কড়া কৌশল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।







