বেহালার সভা থেকে সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মমতা ব্যানার্জী। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে তৃণমূলের আসন কমিয়ে পরে টাকা দিয়ে ভাঙার ছক কষছে বিজেপি। একইসঙ্গে ভোটারদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা—“সরকার শক্ত করে গড়তে হবে, যাতে কেউ ভাঙতে না পারে।”
সভামঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূলকে ভোট দেওয়া মানে তাঁর নেতৃত্বকেই সমর্থন করা। তিনি অভিযোগ করেন, “ওদের খেলা এখন—যেভাবে হোক তৃণমূলের আসন কমাও, তারপর টাকা দিয়ে কিনবে, না হলে ভাঙবে।” তবে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এই কৌশল সফল হবে না।


মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বাংলায় সেই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া যাবে না। তাই শক্তিশালী সরকার গড়ার আবেদন জানান তিনি। মহিলাদের উদ্দেশে মমতা বলেন, গরমের দিনে সহজ খাবার খেয়ে হলেও সকালে ভোট দিতে যেতে হবে। ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণই গণতন্ত্রের মূল শক্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
‘তৃণমূলের আসন কমিয়ে টাকা দিয়ে কেনার প্ল্যান করছে বিজেপি,’ তীব্র আক্রমণে মমতা, ভোটে জবাবের ডাক

কলকাতাকে ‘ঝুপড়ি’ বলা নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেন, এই শহরকে অপমান করা হচ্ছে। অতীতের লোডশেডিংয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে এবং শহর উন্নয়নের পথে এগিয়েছে।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও কেন্দ্রকে নিশানা করেন তিনি। সংসদে দেওয়া তথ্যের উল্লেখ করে তাঁর দাবি, যে সংখ্যার কথা বলা হচ্ছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ভুয়ো খবর ছড়াতে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।


নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী। পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “এটা পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে।”
বেহালার সভায় পরিবহণ ব্যবস্থার প্রসঙ্গও ওঠে। মমতার অভিযোগ, নির্বাচন চলাকালীন যানবাহন কমিয়ে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলা হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতিতেও অনুমতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এদিন সভা চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়া এক সমর্থককে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন মমতা, যা সভার মধ্যে মানবিক দিকটিও সামনে আনে।
ভোটের আগে দ্বিতীয় দফাতেও ‘সেঞ্চুরি’ পার করার লক্ষ্য স্থির করে তিনি কর্মীদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের উপর আলাদা নজর দেওয়া হচ্ছে।”







