দুপুরের ভাতের থালা ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়—এটাই এখন আক্রা-সন্তোষপুরের ১৬ বিঘে বস্তির মানুষের বাস্তব। আচমকা আগুনে মুহূর্তে পুড়ে ছাই হয়ে গেল শতাধিক ঝুপড়ি, সঙ্গে ভস্মীভূত নথিপত্র—ভোটার কার্ড, আধার, সবকিছু। সবচেয়ে উদ্বেগের, একাধিক শিশুর খোঁজ এখনও মিলছে না বলে দাবি এলাকাবাসীর। ভোটের ঠিক আগে এই বিপর্যয় শুধু ঘরবাড়ি নয়, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিল।
শনিবার দুপুর প্রায় ১টা ৪০ মিনিট নাগাদ আক্রা-সন্তোষপুরের বস্তিতে আগুন লাগে। স্থানীয়দের কথায়, “চোখের পলকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে”—কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা, শ্বাস নেওয়াই কঠিন হয়ে ওঠে। অনেকেই ভাত খেতে বসেছিলেন, কেউ বা খাওয়া শুরু করেছিলেন—কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ। ঘর থেকে কিছুই বার করতে পারেননি বাসিন্দারা, শুধু প্রাণ বাঁচিয়েই বেরিয়ে আসতে পেরেছেন।


ক্ষতিগ্রস্তদের একাংশের অভিযোগ, দমকল সময়মতো পৌঁছোয়নি। তাঁদের দাবি, প্রথমে দু’টি ইঞ্জিন এলেও একটিতে জল ছিল না। আগুনের তীব্রতায় রেললাইনের ওভারহেড তার ছিঁড়ে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। এক বাসিন্দার কথায়, “তার পড়ে একজনের শরীর পুড়ে গেছে।” আরেকজন জানান, আগুন দেখে এক ব্যক্তি পুকুরে ঝাঁপ দেন—তারও খোঁজ মেলেনি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ, অন্তত ৪-৫ জন শিশু নিখোঁজ। কেউ কেউ বলছেন সংখ্যাটা আরও বেশি হতে পারে। পরিবারগুলির আর্তি—যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার ও তল্লাশি জোরদার করা হোক।
ঘরবাড়ির পাশাপাশি পুড়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও। এক বাসিন্দার আক্ষেপ, “২৯ তারিখ ভোট—সব ভোটার কার্ড পুড়ে গেল।” ক্ষোভও স্পষ্ট—“নিরাপত্তা দিতে পারে না, ভোট চাইতে আসবে কেন?”—এই প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই, কেন্দ্র ও রাজ্য—দুই পক্ষকেই নিশানা করে।


এখন দমকল ও প্রশাসনের মূল লক্ষ্য আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং নিখোঁজদের সন্ধান। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসন ও নথি পুনরুদ্ধার নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের দাবিও জোরালো হচ্ছে।







