বীরভূমের দুবরাজপুরের সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিনের দুর্ঘটনার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে নেন তিনি। বলেন, "আমি এমনি ঠিক আছি। কিন্তু আমার কোমরে এবং পায়ে চোট আছে। আর ৩০ সেকেন্ড হলেই হেলিকপ্টারটা ক্র্যাশ করে যেত। আমাদের সরকার মানুষের জন্য যা কাজ করেছে, যারা ভোটের সময় বড় বড় কথা বলে, এমনকী আমার দুর্ঘটনা নিয়েও। যে মানুষটা ৩০ সেকেন্ডে মরে যেতে পারত, তার সম্পর্কেও উল্টোপাল্টা বলে বেড়াচ্ছে, অপপ্রচার করছে। আমি জনগণের কাছে এর বিচার চাইব।"
পঞ্চায়েত নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ইস্যুতে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে ভোটের মুখে সেই জট কাটল। কমিশনের আর্জি মেনে রাজ্যে বাকি ৪৮৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠাচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে একথা জানাল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ আগামী ৮ জুলাই ৮২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েই ভোট হবে বাংলায়।
প্রধান বিচারপতি জানান, নির্বাচন কমিশন একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। আদালত তার কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। মানুষের জীবন-জীবিকায় আঘাত এলে আদালত অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। এদিন আদালতে রাজ্যের তরফের আইনজীবী দাবি করেন, রাজ্য সরকার মামলা নিয়ে কিছুই জানে না। কমিশন ভোটের দিন ঘোষণার পর আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না। ভোটের দফা ঘোষণার পর নতুন করে দফা ঘোষণার নিয়ম-আইন নেই। রাজ্যপাল বা হাইকোর্ট জরুরী অবস্থা জারি করতে পারে না। হাইকোর্টের তরফেও জানানো হয়, কোন পরিস্থতিতে রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি হতে পারে, তা একমাত্র রাজ্যপাল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার বীরভূমের দুবরাজপুরে ভার্চুয়াল সভা করবেন বলে জানা গিয়েছিল। কিন্তু আজ তিনি ভার্চুয়ালি থাকছেন না। তবে দলে নেতা কর্মী এবং ভোটারদের উদ্দেশে টেলিফোনে বার্তা দিতে পারেন। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথমে বীরভূমে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গে প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন। বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল বর্তমানে বাংলা থেকে দূরে তিহার জেলে বন্দি। তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রথম ভোট। হাইভোল্টেজ পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারে কমতি রাখতে চায় না তৃণমূল।
আগামী শনিবার রাজ্যে বহু প্রতীক্ষিত পঞ্চায়েত ভোট। মাত্র এক দফাতেই ভোট হবে। কিন্তু রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি আগেই দফা বাড়ানোর দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। এবার তাঁর পথে হেটেই একই দাবিতে সোমবার ভোটের মাত্র পাঁচদিন আগে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী।