ভারতীয় ক্রিকেটে কি শেষ হতে চলেছে অজিত আগরকর অধ্যায়? বুধবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আসন্ন সাদা বলের সিরিজের দল নির্বাচন করতে বৈঠকে বসছে ভারতের নির্বাচক কমিটি। সেই বৈঠকই বর্তমান প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরের শেষ বৈঠক হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত বিসিসিআইয়ের তরফে তাঁর দায়িত্ব শেষ হওয়ার কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ৪ অক্টোবর পর্যন্ত।
সংবাদসংস্থা PTI-র উদ্ধৃত সূত্র অনুযায়ী, আগরকরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তাঁর সঙ্গে বিসিসিআইয়ের শীর্ষ কর্তাদের কোনও নতুন আলোচনা হয়নি। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে। আগরকরের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তিনি বোর্ড সচিব দেবজিৎ সইকিয়াকে একটি ‘ধন্যবাদ’ বার্তা পাঠাতে পারেন।
আগরকর ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের সিনিয়র নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। চেতন শর্মার পর তাঁকে এই পদে আনা হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জাতীয় দলের নির্বাচন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রাক্তন ভারতীয় পেসার।
তাঁর মেয়াদে সাদা বলের ক্রিকেটে ভারতের সাফল্যের তালিকাও যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। আগরকরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটির সময়ে ভারত ২০২৪ এবং ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। ফলে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর সময়টা সাফল্যে ভরা বলেই পরিসংখ্যান বলছে।
তবে এই সময়ের মধ্যে বিতর্কও কম হয়নি। দল নির্বাচন, সিনিয়র ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এবং নির্বাচক কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রোহিত শর্মার ওয়ানডে ভবিষ্যৎ ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনাও সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দেয়। যদিও রোহিতকে ঘিরে তৈরি পরিস্থিতিই আগরকরের চুক্তি না বাড়ানোর কারণ—এমন কোনও সরকারি ব্যাখ্যা বিসিসিআই দেয়নি।
আগরকরের বর্তমান চুক্তি নিয়ে এর আগে অন্য ছবিও সামনে এসেছিল। চলতি বছরের শুরুতে তাঁর মেয়াদ বাড়িয়ে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়। পাশাপাশি ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার আগ্রহও তিনি জানিয়েছিলেন বলে একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু এখনও সেই মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে বোর্ডের তরফে কোনও নিশ্চিত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
বুধবারের বৈঠকে তাই শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল নির্বাচনই নয়, ভারতীয় ক্রিকেটের নির্বাচক কাঠামো নিয়েও নজর থাকবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতের তিনটি ওয়ানডে ও পাঁচটি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা রয়েছে। সাদা বলের সেই সিরিজের দল বাছাই করতে গিয়ে রিশভ পন্থ, হার্দিক পাণ্ড্য-সহ একাধিক ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
বিশেষ করে হার্দিকের ফিটনেস এবং ওয়ানডে দলে দ্বিতীয় উইকেটরক্ষকের জায়গা নিয়ে নির্বাচকদের সামনে একাধিক বিকল্প রয়েছে। ফলে আগরকর যদি সত্যিই শেষবারের মতো নির্বাচক বৈঠকে বসেন, তা হলে তাঁর বিদায়ী বৈঠকটিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আগরকরের জায়গায় কে আসবেন, তা নিয়েও ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রিপোর্টে ভিভিএস লক্ষ্মণের নাম সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। তবে বিসিসিআই এখনও পরবর্তী প্রধান নির্বাচক নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। ফলে এই মুহূর্তে তাঁর নামকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
সব মিলিয়ে বুধবারের বৈঠকটি অজিত আগরকরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। তবে “আজই আগরকর যুগের শেষ”—এমন নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় এখনও আসেনি। ৪ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর চুক্তি বহাল রয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বিসিসিআই কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন ভারতীয় ক্রিকেটমহলের নজরে।



