গণেশ পুজোর মণ্ডপে নীল-সাদা কাপড় কেন? এই প্রশ্ন তুলে আপত্তি স্থানীয় বিজেপি নেতার। তাঁর দাবি, নীল-সাদা রং ব্যবহার করে হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে ওই আপত্তির পর মণ্ডপের বাইরের নীল-সাদা কাপড় খুলে হলুদ-সাদা কাপড় লাগানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
ঘটনাটি হরিশ্চন্দ্রপুর সদর এলাকার ইয়ং বয়েজ ক্লাবের গণেশ পুজোকে ঘিরে। প্রতি বছরই স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে সেখানে গণেশ পুজোর আয়োজন হয়। এবারও পুজো উপলক্ষে মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছিল। মণ্ডপের ভিতরে হলুদ-সাদা কাপড়ের পাশাপাশি বাইরের অংশে ব্যবহার করা হয়েছিল নীল-সাদা কাপড়।
পুজোর সময় ওই মণ্ডপে গিয়েছিলেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান এবং জেলা পরিষদ সদস্য বুলবুল খান। তাঁদের উপস্থিতির পরেই মণ্ডপের নীল-সাদা সাজ নিয়ে আপত্তি তোলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা অর্জুন কেশরী। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এই রং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, এর মাধ্যমে হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত করা হচ্ছে।
ওই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিতর্কের পর মণ্ডপের বাইরের নীল-সাদা কাপড় খুলে ফেলা হয় এবং তার জায়গায় হলুদ-সাদা কাপড় লাগানো হয়। কাপড় বদলের সিদ্ধান্ত ঠিক কার নির্দেশে বা কী পরিস্থিতিতে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে পুজো কমিটির তরফে স্পষ্ট বক্তব্য সামনে আসেনি।
এই ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্যও তৈরি হয়েছে নীল-সাদা রংকে ঘিরে বাংলার পরিচিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে। তৃণমূলের শাসনকালে সরকারি বিভিন্ন পরিকাঠামো ও অনুষ্ঠানে নীল-সাদা রঙের ব্যবহার ব্যাপকভাবে দেখা গিয়েছিল। সেই কারণে রং দু’টি বাংলার রাজনীতিতে একটি দৃশ্যমান রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তবে কোনও পুজোর মণ্ডপে নীল-সাদা কাপড় ব্যবহার করলেই তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য এই ঘটনায় নেই।
বরং স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব প্রকাশ্যেই ওই নেতার বক্তব্য থেকে নিজেদের দূরত্ব তৈরি করেছে। মালদহ জেলা বিজেপির সম্পাদক রূপেশ আগরওয়াল জানিয়েছেন, পুজোর মণ্ডপের কাপড় যে কোনও রঙের হতে পারে এবং আয়োজকেরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী রং বেছে নেবেন। তাঁর বক্তব্য, পুজোর মণ্ডপকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা দলের অবস্থান নয়।
অন্যদিকে, ঘটনাটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমানও। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি হরিশ্চন্দ্রপুরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার কথা বলেন এবং বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানানোর কথা জানিয়েছেন।
অর্থাৎ, একটি গণেশ পুজোর মণ্ডপের সাজসজ্জার রং থেকেই তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপি নেতার আপত্তির কেন্দ্রে ছিল নীল-সাদা রং এবং তার কথিত রাজনৈতিক তাৎপর্য; অন্যদিকে জেলা বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, মণ্ডপের রং বেছে নেওয়া আয়োজকদের ব্যক্তিগত বিষয়। শেষ পর্যন্ত বিতর্কের মধ্যে নীল-সাদা কাপড় বদলে যাওয়াতেই আপাতত থেমেছে ঘটনাটি।



