পঞ্চায়েত নির্বাচনের অন্তিম পর্বের প্রচার চলছে। শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীরা বিভিন্ন জায়গায় কর্মসূচিতে রয়েছেন। তাদের মধ্যেই একজন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের স্টাইলেই জনগণকে বার্তা দিলেন তিনি। ময়নাগুড়িতে প্রচারে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে গুড় বাতাসা খাওয়ানোর কথা বলেন মদন মিত্র।
পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার ভাঙড়। বোমাবাজি হয়, গুলি চলে কয়েক রাউণ্ড। জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। বুধবার এই মামলার শুনানিতে ভাঙড়ের অশান্তির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার যাবতীয় ফুটেজ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরও একটি জটিলতা কাটল। এক দফাতেই ভোট হবে, বুধবার এক মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর আবেদন খারিজ হয়ে গেল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে। পর্যাপ্ত বাহিনী রাজ্যে রয়েছে, ফলে দফা বাড়িয়ে ভোট করানোর প্রয়োজন নেই, এমনই পর্যবেক্ষণ আদালতের।
সূত্রে খবর, আগামী শনিবার অর্থাৎ ৮ জুলাই হাইভোল্টেজ পঞ্চায়েত ভোট। ওইদিন সকাল ১১ টার পর কলকাতার একাধিক জায়গায় কর্মীদের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। শ্যামবাজার, হাজরা মোড়, মৌলালি রয়েছে এই তালিকায়। বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, ভোটের দিনও অশান্তির আশঙ্কা রয়েছে। তাই আগে থেকেই কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।
আদালত নির্দেশ দেয়, বিএসএফের আইজি পদমর্যাদার অফিসার ফোর্স কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করবে। তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন কোথায় কত ফোর্স পাঠাতে হবে। এরফলে বাহিনী মোতায়েন এবার আর রাজ্য নির্বাচন কমিশনের একার সিদ্ধান্ত নয়। পাশাপাশি, কেবল ভোটের দিন নয়, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া অর্থাৎ ফল ঘোষণা পর্যন্ত বাহিনী মোতায়েন রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন পর্বে একের পর এক অশান্তির খবর সামনে এসেছে। বোমাবাজি, গুলির আওয়াজে কেঁপে উঠেছে বাংলা। প্রাক ভোট হিংসায় মৃতের সংখ্যা ১৩। এদিকে রাজ্য পুলিশের দাবি, বাংলায় হিংসার ঘটনা কম। ছোট ঘটনাগুলিকেও বড় করে দেখানো হচ্ছে। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালব্য। তাঁর এহেন মন্তব্যের পরই শুরু হয়েছে সমালোচনা।