নজরবন্দি ব্যুরো: উত্তরবঙ্গ সফরে দুর্যোগের মুখে পড়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার। প্রাণরক্ষা হলেও জরুরী অবতরণের সময় পায়ে ও কোমরে চোট পান তিনি। চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে রয়েছেন। কিন্তু তার এই চোট নিয়ে বিরোধী মহল থেকে নানা কটাক্ষ শোনা গিয়েছে। সোমবার বীরভূমের ভার্চুয়াল সভা থেকে সেইসব মন্তব্যের পাল্টা জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: কমিশনের আর্জিতে রাজি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, ৮২২ কোম্পানি দিয়েই পঞ্চায়েত ভোট বাংলায়
এদিন বীরভূমের দুবরাজপুরের সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিনের দুর্ঘটনার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে নেন তিনি। বলেন, “আমি এমনি ঠিক আছি। কিন্তু আমার কোমরে এবং পায়ে চোট আছে। আর ৩০ সেকেন্ড হলেই হেলিকপ্টারটা ক্র্যাশ করে যেত। আমাদের সরকার মানুষের জন্য যা কাজ করেছে, যারা ভোটের সময় বড় বড় কথা বলে, এমনকী আমার দুর্ঘটনা নিয়েও। যে মানুষটা ৩০ সেকেন্ডে মরে যেতে পারত, তার সম্পর্কেও উল্টোপাল্টা বলে বেড়াচ্ছে, অপপ্রচার করছে। আমি জনগণের কাছে এর বিচার চাইব।”

এখন মুখ্যমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা কেমন? তিনি জানিয়েছেন, ‘রোজ চার ঘণ্টা ধরে নানারকম থেরাপি করতে হচ্ছে। তবে পুরোপুরি সেরে উঠতে আরও ৭-৮ দিন সময় লাগবে। আমি মানসিকভাবে একেবারে সুস্থ আছি। আসলে হাঁটুতে লেগেছে। কোমরেও লেগেছে লাফাতে গিয়ে। জানি না এর মধ্যে আরও কিছু আছে কি না। তাই পঞ্চায়েত নির্বাচনে আপনাদের কাছে যেতে পারছি না। মানসিকভাবে আমার মন ছটফট করছে আপনাদের কাছে যাওয়ার জন্য।”

প্রসঙ্গত, আগস্ট মাসে বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডলের বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে বাংলা থেকে দূরে তিহার জেলে বন্দি। তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রথম ভোট। হাইভোল্টেজ পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারে কমতি রাখতে চায় না শাসক দল। অনুব্রতর গ্রেফতারির পর তাঁকে দলীয় পদ থেকে সরানো হয়নি। তাঁর অনুপস্থিতিতে কোর কমিটি গঠন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই জেলার সংগঠনের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেন। প্রচারের অন্তিম পর্বে অনুব্রতহীন বীরভূমে ভার্চুয়ালি সভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। পঞ্চায়েত ভোটে এই জেলা তৃণমূলের কাছে বড় চ্যালঞ্জ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
‘মানুষটা ৩০ সেকেন্ডে মরে যেতে পারত’, চোট নিয়ে বিরোধীদের মন্তব্যের পাল্টা Mamata Banerjee










