আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি অবধি জেল হেফাজতে থাকবেন মানিক ভট্টাচার্য। কিন্তু আত্মসমর্পণ করার পরেও কেন গ্রেফতার হচ্ছে না মানিকের স্ত্রী-পুত্র? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, অর্ডারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে মানিক পুত্র সৌভিক, স্ত্রী অপরূপা এবং তাপস মণ্ডলের গ্রেফতারির কথা। তারপরেও কেন তাঁরা এখনও জেলের বাইরে রয়েছে?
শনিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত মানিক ভট্টাচার্যের স্ত্রী ও ছেলে। এরপর তাঁকে ফের হেফাজতে নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। দীর্ঘ সময় ধরে জেলবন্দি থাকার পর মানিকের মুখে শোনা গেল আক্ষেপের সুর। আদালত থেকে বের হওয়ার সময় ঘনিষ্ঠ মহলে জানালেন, আমার জীবনে আর কিছুই নেই। নিজেকে এবার কলঙ্কিত লাগছে।
এই মুহুর্তে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য এখন জেল হেফাজতে। এরই মধ্যে ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সূত্রে খবর, মানিকের ভাইয়ের বউয়ের অভিযোগ, ২০১০ সালে বিদেশে ভ্রমণ করতে যাওয়ার নাম করে টোপ দিয়েছিলেন মানিক। তাঁদের সমস্ত পরিচয়পত্রের কপি নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এমনকি পাসপোর্টে আবেদনের জন্য সাদা পাতায় সই করানো হয়েছিল। এমনকি জয়েন্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য মানিক জোর করে নিয়েছিল। পরে সেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন মানিকের ভাইয়েরা। অভিযোগ, সই জাল করে টাকা পাচার করত মানিক।
মানিক পুত্র সৌভিক ভট্টাচার্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ২ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকার সঙ্গে নিয়োগ দুর্নীতির যোগ রয়েছে। এমনটাই অনুমান করেছিল ইডি। এরপর মানিক ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডলের আরও এক বিস্ফোরক বয়ানে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিয়োগ দুনীতিতে যুক্ত মানিক পুত্র। বিস্ফোরক দাবি করলেন তাপস মণ্ডল।
পর্ষদের সভাপতি পদে থেকে মানিক ভট্টাচার্যকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তখন থেকেই মানিকের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে তদন্তকারী সংস্থা। একক বেঞ্চের রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিলেন মানিক। পরে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। এখন মানিককে হলফনামা জমা দেওয়ার সুযোগ দিল আদালত।