নজরবন্দি ব্যুরোঃ শনিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত মানিক ভট্টাচার্যের স্ত্রী ও ছেলে। এরপর তাঁকে ফের হেফাজতে নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। দীর্ঘ সময় ধরে জেলবন্দি থাকার পর মানিকের মুখে শোনা গেল আক্ষেপের সুর। আদালত থেকে বের হওয়ার সময় ঘনিষ্ঠ মহলে জানালেন, আমার জীবনে আর কিছুই নেই। নিজেকে এবার কলঙ্কিত লাগছে।
আরও পড়ুনঃ Manik Bhattacharya: আত্মসমর্পণ করল মানিকের পরিবার, হেফাজতে নেবে ইডি?
সম্প্রতি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মানিক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে ইডি। ইডির সেই চার্জশিটে রয়েছে মানিক ও তাঁর স্ত্রী, পুত্রের নাম। সেইসূত্রে স্ত্রী ও পুত্রকে তলব করেছিল আদালত। এদিন আত্মসমর্পণ করল মানিকের পরিবার। পাশাপাশি জামিনের আর্জি জানান তাঁরা। তবে জামিনে বিরোধিতা করেছে ইডি। আগামী ৭ তারিখ মামলার পরবর্তী শুনানি। ততদিন অবধি জেলেই কাটাতে হবে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতিকে।

উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্ত করতে নেমে ইডির নজরে ছিল মানিক এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল ইডির নজরে। মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী নামে এক মৃত ব্যক্তির সঙ্গে মানিকের স্ত্রীর একটুই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নজরে এসেছিল। সেখানে ৩ কোটি টাকার রয়েছে বলেও জানা গেছে। মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে এত টাকা এখনও কেন? এই টাকা আর্থিক তছরুপের বলেই মনে করা হয়েছে।
২০১১ সাল থেকে ৫৮ হাজারের বেশী নিয়োগ হয়েছে। দুর্নীতির পাহাড় জমা হয়েছে তৃণমূলের আমলে তা বোঝাতেই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন ইডি। দুর্নীতির সঙ্গে প্রতিটি ধাপে মানিক ভট্টাচার্য যুক্ত রয়েছেন বলে দাবি করেছে ইডি। এমনকি মানিকের পরিবারের সদস্যরাও এর সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে। সেই সময়েই মানিকের বক্তব্য ছিল, আমাকে মেরে ফেলো কিন্তু ওদের কিছু ক্ষতি হতে দিও না।
নিজেকে এবার কলঙ্কিত লাগছে, আফসোস করছেন মানিক

ইডির তরফে দাবি করা হচ্ছে, এর আগে মানিক ভট্টাচার্যের বাড়ি থেকে একাধিক তথ্য পেয়েছিল ইডি। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে মানিকের কম্পিউটার থেকে। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে টাকার বিনিময়ে চাকরি বিলিয়েছেন মানিক। সেই টাকা গেছে প্রভাবশালীদের কাছেও।



