২৬ কোপে কোটিপতি ওষুধ ব্যবসায়ী খুন! শ্যাম্পেন হাতে পার্টিতে বউমা, পুলিশের তদন্তে সামনে ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র

কানপুরে নিজের ফ্ল্যাটে ২৬টিরও বেশি কোপে খুন ওষুধ ব্যবসায়ী বিনীত মিনোচা। পুলিশের তদন্তে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, সিসিটিভি ও কল রেকর্ডে মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

একদিকে লাউঞ্জে গান-বাজনা, শ্যাম্পেনের গ্লাস হাতে পার্টিতে ব্যস্ত বউমা। অন্য দিকে নিজের ফ্ল্যাটেই প্রাণের জন্য ছটফট করছেন শ্বশুর। উত্তরপ্রদেশের কানপুরে কোটিপতি ওষুধ ব্যবসায়ী বিনীত মিনোচা (Vineet Minocha) খুনের তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি পুলিশের। ধারালো অস্ত্রের ২৬টিরও বেশি কোপে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় ব্যবসায়ীর দেহ। প্রথমে ঘটনাটি ডাকাতির চেষ্টা বলে মনে হলেও তদন্ত এগোতেই পরিবারের অন্দরেই উঠে আসে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ।

কানপুরের ইন্দিরা নগর এলাকার বাসিন্দা বিনীতকে তাঁর নিজের ফ্ল্যাটে নৃশংস ভাবে খুন করা হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে একের পর এক আঘাত করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। ঘটনার পর প্রাথমিক ভাবে ডাকাতির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছিল পুলিশ। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড এবং অন্যান্য তথ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে তদন্তের মোড় ঘুরে যায়।

পুলিশের দাবি, এই ঘটনায় বিনীতের পুত্রবধূ শালু মিনোচার (Shalu Minocha) বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের বক্তব্য, শ্বশুরবাড়ির কড়া নজরদারি এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষুব্ধ ছিলেন শালু। বাড়ির বসার ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পর তাঁর ব্যক্তিগত পরিসর নিয়েও আপত্তি ছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

অভিযোগ, এরপর পুরনো পারিবারিক কর্মচারী বিশাল গৌতমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন শালু। পুলিশের দাবি, প্রায় ৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিনীতকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরিকল্পনাটি এমন ভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে হয়। ঘুমন্ত অবস্থায় বালিশ চাপা দিয়ে খুন করে হার্ট অ্যাটাক হিসেবে ঘটনাটি দেখানোর পরিকল্পনাও হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের আরও দাবি, ঘটনার প্রায় ২০ দিন আগে ফ্ল্যাটে ঢোকার জন্য নকল চাবি তৈরি করানো হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার রাতে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে তিলক নগরের একটি লাউঞ্জে যান শালু। সেই সময়ই নকল চাবি ব্যবহার করে বিশাল এবং তাঁর এক সঙ্গী ফ্ল্যাটে ঢোকে বলে তদন্তকারীদের দাবি।

কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কিছু হয়নি। তদন্তকারীদের বক্তব্য, বিনীত জেগে যাওয়ায় পরিস্থিতি বদলে যায়। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আক্রমণ করে খুন করা হয়। একাধিক আঘাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক হিসেবে উঠে এসেছে শালুর পার্টিতে থাকার বিষয়টি। পুলিশের দাবি, ঘটনার সময় তিনি লাউঞ্জে ছিলেন এবং আততায়ী হিসেবে অভিযুক্তদের সঙ্গে ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছিলেন। এমনকি তাঁদের নির্দেশও দিচ্ছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।

পরদিন ভোরে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে দেহ দেখতে পান। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা শালুর সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগের বিষয়টি জানতে পারেন। পুলিশের দাবি, গত কয়েক মাসে শালু এবং মূল অভিযুক্তের মধ্যে শতাধিক ফোন ও মেসেজ আদান-প্রদান হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত পুলিশ শালু, বিশাল এবং আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি। পরিবারের অন্দর থেকে এমন নৃশংস খুনের অভিযোগ সামনে আসায় কানপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন