কৌশিকী অমাবস্যা: আজই অমাবস্যার রাত, মা তারার কৃপা পেতে কোন কোন নিয়ম মানবেন?

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কৌশিকী অমাবস্যা। শাক্ত ও তন্ত্র সাধনায় এই তিথির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। জেনে নিন অমাবস্যার সময়, তারাপীঠের পুজো এবং প্রচলিত আচার ও টোটকা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভাদ্র মাসের অমাবস্যা তিথিই কৌশিকী অমাবস্যা (Kaushiki Amavasya) নামে পরিচিত। শাক্ত ও তন্ত্র সাধনার সঙ্গে যুক্ত ভক্তদের কাছে এই তিথির বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। বিশেষ করে বীরভূমের তারাপীঠে (Tarapith) কৌশিকী অমাবস্যার রাত ঘিরে থাকে বিশেষ আয়োজন। এই রাতে মা তারার বিশেষ পুজো ও আরাধনায় অংশ নেন অসংখ্য ভক্ত।

পুরাণ ও লোকবিশ্বাসে কৌশিকী অমাবস্যাকে দেবী আরাধনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি হিসেবে মনে করা হয়। তন্ত্রসাধনার ক্ষেত্রেও এই রাতের গুরুত্ব রয়েছে বলে শাস্ত্রীয় ও প্রচলিত বিশ্বাস। সাধক বামাক্ষ্যাপার (Bamakhepa) সিদ্ধিলাভের সঙ্গেও কৌশিকী অমাবস্যার নাম জড়িয়ে রয়েছে। তাই তন্ত্রসাধক ও শক্তির উপাসকদের কাছে এই তিথি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

কখন পড়ছে কৌশিকী অমাবস্যা?

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কৌশিকী অমাবস্যা পড়েছে ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার। বাংলা ২৪ ভাদ্র সকাল ১০টা ৯ মিনিটে অমাবস্যা তিথি শুরু হয়েছে। পরদিন শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ ২৫ ভাদ্র সকাল ৮টা ৪৮ মিনিটে তিথি শেষ হবে।

তাই বৃহস্পতিবার রাতেই কৌশিকী অমাবস্যার বিশেষ আরাধনা ও পুজোর আয়োজন হচ্ছে। তারাপীঠে সারা রাত ধরে মা তারার বিশেষ পুজো ও ধর্মীয় আচার পালনের প্রস্তুতি রয়েছে।

কৌশিকী অমাবস্যার রাতে কী করবেন?

শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কৌশিকী অমাবস্যার রাত দেবী আরাধনার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনে অনেকে সংযম পালন করেন এবং উপবাস রাখেন। পুরো দিন উপবাস সম্ভব না হলে অনেকে নিরামিষ খাবার গ্রহণ করেন।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সন্ধ্যায় বাড়ির মূল দরজার দু’পাশে তিলের তেলের প্রদীপ জ্বালানো শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস, প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবীকে স্মরণ করলে ঘরে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয় এবং অশুভ শক্তি দূরে থাকে।

মা তারার পায়ে রক্তজবা ফুল ও লাল সিঁদুর নিবেদন করেও পুজো করা হয়। ভক্তিভরে দেবীর কাছে প্রার্থনা করা কৌশিকী অমাবস্যার অন্যতম প্রচলিত রীতি। তবে পুজোর নিয়ম অঞ্চল, পরিবার ও সম্প্রদায়ের রীতি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।

আরও একটি প্রচলিত টোটকা হল, সন্ধ্যায় বাড়ির কাছাকাছি কোনও কুয়োয় এক চামচ দুধ ঢেলে দেওয়া। কুয়ো না থাকলে মাটির কোনও গর্তে দুধ দেওয়ার কথাও লোকাচারে রয়েছে। এই ধরনের আচারের সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাস জড়িয়ে থাকলেও এগুলিকে বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত ফল হিসেবে দেখা উচিত নয়।

কৌশিকী অমাবস্যায় বাড়িঘর পরিষ্কার রাখার উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ঘরে যেন আবর্জনা বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমে না থাকে, সেদিকে নজর দিতে পারেন। বাড়ির উঠোন বা প্রবেশপথও পরিষ্কার রাখার রীতি রয়েছে।

এ দিন ঘরে এঁটো বাসন ফেলে না রাখা এবং নোংরা জামাকাপড় জমিয়ে না রাখার কথাও প্রচলিত। যে পোশাক আর ব্যবহার করা হয় না, তা প্রয়োজনমতো দান করে দেওয়ার রীতিও অনেকের মধ্যে দেখা যায়।

আর একটি প্রচলিত টোটকায় জলহীন শুকনো নারকেলের এক দিকে ফুটো করে তার মধ্যে চিনি ভরে মাটিতে পুঁতে দেওয়ার কথা বলা হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই আচারের মাধ্যমে জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর করার প্রার্থনা করা হয়। তবে এটিও একটি প্রচলিত লোকাচার—এর কোনও নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

কৌশিকী অমাবস্যা মূলত দেবী আরাধনা, সংযম ও আধ্যাত্মিক সাধনার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ তিথি। তাই টোটকার পাশাপাশি ভক্তি, প্রার্থনা ও নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী পুজো করাকেই এই দিনের মূল তাৎপর্য হিসেবে দেখেন ভক্তরা। তারাপীঠে মা তারার বিশেষ আরাধনার মধ্য দিয়ে আজ রাতেও সেই ধর্মীয় আবহ আরও গভীর হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন