মমতার সভায় অনুমতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিঙ্গল বেঞ্চের রায় চ্যালেঞ্জ রাজ্যের!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুগলির সভায় সিঙ্গল বেঞ্চের শর্তসাপেক্ষ অনুমতির পরই ডিভিশন বেঞ্চে গেল রাজ্য। মাহেশের মাঠের মালিকানা, ধর্মীয় ব্যবহার ও বিকল্প স্থান নিয়ে শুনানি হবে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

হুগলিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সভা ঘিরে আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) সিঙ্গল বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে কালীঘাট তৃণমূলকে সভার অনুমতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই নির্দেশের একটি অংশ নিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হল রাজ্য। প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে (Ravindra V. Ghuge) এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্যের আবেদন, সভার জন্য যে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেই নির্দেশটি সংশোধন করা হোক।

শুক্রবার শ্রীরামপুরের মাহেশে সভা করার কথা কালীঘাট তৃণমূলের। সেই কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, মাহেশের জগন্নাথ দেব স্নানপিঁড়ি ময়দানে সভা করতে পারবে কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু ওই মাঠের ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়েই আপত্তি তুলেছে রাজ্য।

প্রধান বিচারপতির এজলাসে রাজ্যের হয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য। রাজ্যের বক্তব্য, সভা করার অনুমতি নিয়ে তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু যে মাঠে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি। জমির মালিক যদি রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য মাঠ ব্যবহারের অনুমতি না দেন, সে ক্ষেত্রে পুলিশ কী ভাবে আদালতের নির্দেশ কার্যকর করবে, সেই প্রশ্নই তুলেছে রাজ্য।

ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্যের আরও দাবি, ওই মাঠ মূলত ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কাজে ব্যবহৃত হয়। রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য জমি দিতে কোনও ব্যক্তিকে পুলিশ জোর করতে পারে না। তাই ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিষয়টি থেকে পুলিশকে দায়মুক্ত করার আবেদন জানিয়েছে রাজ্য। বিকল্প হিসেবে অন্য কোনও জায়গায় কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এ দিকে, মাঠের মালিকপক্ষও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। তাদের বক্তব্য, মাহেশের ওই জমি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কাজে ব্যবহার করা হয়। মাহেশের ঐতিহ্যবাহী রথের মেলার সময়ও জমিটি ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য বর্তমানে জমি দিতে তারা ইচ্ছুক নয় বলেই আদালতে জানানো হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি ঘুগে মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির আগে সাধারণ মানুষের সমস্যার বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন। এমন জায়গাতেই কর্মসূচি করা উচিত, যাতে সাধারণ মানুষকে কোনও সমস্যার মধ্যে পড়তে না হয়। একই সঙ্গে বিকল্প জায়গা ঠিক করে আসার কথাও বলা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য কালীঘাট তৃণমূলকে শর্তসাপেক্ষে সভার অনুমতি দিয়েছিলেন। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী, মাহেশের জগন্নাথ দেব স্নানপিঁড়ি ময়দানে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত সভা করা যাবে। জমায়েতের সংখ্যাও সর্বাধিক ২ হাজারের মধ্যে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভা ঘিরে আইনশৃঙ্খলার বিষয়েও একাধিক শর্ত দিয়েছিল সিঙ্গল বেঞ্চ। কারও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে, এমন কোনও উস্কানিমূলক মন্তব্য করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে।

কালীঘাট তৃণমূলের তরফে সভায় দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের নাম ও ফোন নম্বরের তালিকাও বৃহস্পতিবার রাত ৮টার মধ্যে পুলিশের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ ছিল। তবে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাঠের মালিকানা ও ব্যবহারের প্রশ্নে রাজ্যের আবেদনে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এখন ডিভিশন বেঞ্চের শুনানিতে কী নির্দেশ আসে, তার দিকেই নজর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন