এক হাতে স্টাম্প, পাশে ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi), আর মাঠের মাঝেই নাচছেন অধিনায়ক ঈশান কিষান (Ishan Kishan)। কয়েক মাসের ব্যবধানেই অধিনায়ক হিসেবে আরও একটি ঐতিহাসিক সাফল্য পেলেন ঈশান। তাঁর নেতৃত্বে ঝাড়খণ্ড প্রথম বার সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি জেতার পর এ বার পূর্বাঞ্চলকে ১৩ বছর পর দলীপ ট্রফি (Duleep Trophy) জেতালেন তিনি। চেন্নাইয়ের এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে দক্ষিণাঞ্চলের বিরুদ্ধে ফাইনাল ড্র হলেও প্রথম ইনিংসে ৩৭২ রানের বিশাল লিডই পূর্বাঞ্চলকে এনে দেয় ট্রফি।
ঈশানের ২৭০ রানেই তৈরি হয়েছিল ভিত
ফাইনালের শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় পূর্বাঞ্চল। প্রথম ইনিংসে ৭০৮ রানের পাহাড় গড়ে তারা। সেই বিশাল স্কোরের মূল কারিগর অধিনায়ক ঈশান। একাই ২৭০ রান করে দলকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করান তিনি। কুমার কুশাগ্র করেন ১০১ এবং শিখর মোহন করেন ৮৫ রান।
জবাবে ৩৩৬ রানে গুটিয়ে যায় দক্ষিণাঞ্চলের প্রথম ইনিংস। অধিনায়ক তিলক বর্মা ৯৯ রান করে লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। দেবদত্ত পাডিক্কাল করেন ৬২। কিন্তু পূর্বাঞ্চলের বোলিং আক্রমণের সামনে বড় জুটি গড়তে পারেনি দক্ষিণাঞ্চল।
মুকেশ কুমার তিনটি উইকেট নেন। মহম্মদ শামি (Mohammed Shami) এবং এমডি কৌনাইন কুরেশি (MD Kaunain Qureshi) দু’টি করে উইকেট তুলে নেন। ফলে প্রথম ইনিংসে ৩৭২ রানের বিশাল লিড পেয়ে যায় পূর্বাঞ্চল।
দ্বিতীয় ইনিংসেও বড় রান, সেঞ্চুরি কুরেশির
প্রথম ইনিংসে বড় লিড পাওয়ার পরেও ব্যাটিংয়ে লাগাম টানেনি পূর্বাঞ্চল। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৮৮ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে তারা। ঈশান ফের ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়ে করেন ৮০ রান। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁর সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৫০ রান। স্বাভাবিক ভাবেই ম্যাচের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারও ওঠে তাঁর হাতে।
এই ইনিংসেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করেন কৌনাইন কুরেশি। ১১৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। অনুকূল রায় করেন ৬৪ রান। তাঁদের জুটিতে পূর্বাঞ্চলের লিড আরও বেড়ে যায়।
দক্ষিণাঞ্চলের সামনে তখন জয়ের জন্য কার্যত অসম্ভব লক্ষ্য। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ড্র হয়। প্রথম ইনিংসে পাওয়া ৩৭২ রানের লিডের সুবাদে ১৩ বছর পর দলীপ ট্রফি জিতে নেয় পূর্বাঞ্চল।
বৈভবের সঙ্গে ঈশানের নাচে জমল উৎসব
পূর্বাঞ্চলের এই জয়ের অন্যতম আলোচিত মুখ ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী। সহ-অধিনায়ক হিসেবে ফাইনালে ৩৭ বলে ৪৪ রান করেন তিনি। অভিমন্যু ঈশ্বরনের সঙ্গে প্রথম উইকেটে ১০০ রানের জুটিও গড়েন বৈভব।
শুধু ব্যাট হাতেই নয়, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেও নিজের ক্রিকেটীয় বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে এই তরুণ। ঋষি ভুঁইয়ের বিরুদ্ধে ক্যাচের আবেদন খারিজ হওয়ার পর ঈশানকে রিভিউ নেওয়ার পরামর্শ দেয় বৈভব। রিভিউয়ে আল্ট্রাএজে ব্যাটে বল লাগার প্রমাণ মেলে এবং সিদ্ধান্ত যায় পূর্বাঞ্চলের পক্ষে।
তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আর কোনও চাপ নয়। মাঠেই উৎসবে মেতে ওঠেন ক্রিকেটাররা। স্টাম্প হাতে ঈশানের সঙ্গে নাচতে দেখা যায় বৈভবকে। সতীর্থদের সঙ্গে জয় উদ্যাপনে মেতে ওঠে গোটা পূর্বাঞ্চল দল।
১৩ বছর পর দলীপ ট্রফি হাতে তুলে নেওয়ার পর ঈশানও জানালেন, এই সাফল্য কোনও এক জনের নয়। তাঁর কথায়, দল হিসেবে খেলাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকে একে অপরের পাশে থেকেছে এবং সেই কারণেই সাফল্য এসেছে। নেতৃত্বে ভুল হতে পারে, কিন্তু প্রতিদিন আরও উন্নতি করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
ঈশানের মতে, মাঠে শান্ত থাকা, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ করাই নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। সতীর্থদেরও সেই জায়গায় পৌঁছতে সাহায্য করতে হয়। দলীপ ট্রফি জয়ের পর তাঁর নিজের মধ্যেও জেতার খিদে আরও বেড়েছে। এখন লক্ষ্য একটাই—দলের হয়ে আরও বেশি ম্যাচ জেতানো।



