১০০তম ম্যাচের আগে শামিকে নিয়ে বড় মন্তব্য ঈশানের, ‘এখনও ভারতীয় দলে ফেরার খিদে রয়েছে ওর’

দক্ষিণাঞ্চলের বিরুদ্ধে দলীপ ট্রফির ফাইনালে নিজের ১০০তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলবেন মহম্মদ শামি। ম্যাচের আগে ঈশান কিশনের দাবি, জাতীয় দলে ফেরার খিদে এখনও অটুট বাংলার পেসারের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দলীপ ট্রফির ফাইনালের আগে মহম্মদ শামিকে নিয়ে মুখ খুললেন পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ক ঈশান কিশন। রবিবার দক্ষিণাঞ্চলের বিরুদ্ধে ফাইনালে নামবে পূর্বাঞ্চল। তার আগে দলের অন্যতম অভিজ্ঞ পেসারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ঈশান। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, বয়স কোনও বাধা নয়—শামির মধ্যে এখনও ভারতীয় দলে ফেরার প্রবল তাগিদ রয়েছে।

সেমিফাইনালেই নিজের ধার আরও একবার দেখিয়েছেন বাংলার পেসার মহম্মদ শামি (Mohammed Shami)। মধ্যাঞ্চলের বিরুদ্ধে দুই ইনিংস মিলিয়ে পাঁচটি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর বোলিংয়ে এখনও আগের মতোই নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকরী সুইং রয়েছে বলে মনে করছেন সতীর্থরা।

ফাইনালের আগের দিন সাংবাদিক বৈঠকে শামির প্রসঙ্গে ঈশান কিশন (Ishan Kishan) বলেন, ভারতের সেরা বোলারদের মধ্যে শামিকে রাখেন তিনি। বাংলার হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়েও যে পরিশ্রম করেছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটেও সেই একই মানসিকতা বজায় রেখেছেন শামি—এটাই ঈশানের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়।

জাতীয় দলের নির্বাচকেরা ভবিষ্যতে শামিকে নিয়ে কী ভাবছেন, তা এখনই স্পষ্ট নয়। কিন্তু ঈশানের চোখে শামির প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছায় কোনও ঘাটতি নেই। তাঁর মতে, ক্রিকেটে বয়সের চেয়ে পারফরম্যান্স এবং মানসিকতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শামির মধ্যেও এখনও সেই প্রতিযোগিতার আগুন রয়েছে।

শামির জন্য রবিবারের ম্যাচটি আরও বিশেষ। দলীপ ট্রফির ফাইনালেই নিজের ১০০তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে নামবেন তিনি। ৯৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৯০৩ উইকেট। এমন মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়েও যে তিনি থেমে নেই, সেটাই ঈশানের কথায় উঠে এসেছে।

তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য শামির পরিশ্রমকে শিক্ষণীয় বলেও মনে করেন ঈশান। তাঁর দাবি, অনুশীলনে শামি বারবার অধিনায়কের কাছে বল চান। আরও ওভার করতে চান এবং নিজের হাতে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর দায়িত্ব নিতে চান। দলের অধিনায়ক হিসেবে এমন একজন বোলার পাশে থাকলে বাড়তি আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায় বলেও জানিয়েছেন ঈশান।

শুধু বল হাতে নয়, ব্যাট হাতেও শামির অবদানকে মনে করিয়ে দিয়েছেন পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ক। আগের ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দু’টি চার মেরে দলকে জেতাতে সাহায্য করেছিলেন শামি। ফলে তাঁকে শুধু বোলার হিসেবে দেখলে তাঁর সামগ্রিক অবদানকে ছোট করে দেখা হবে বলেই মনে করছেন ঈশান।

২০২৩ সালের এক দিনের বিশ্বকাপের পর ভারতীয় দলে শামির জায়গা নিয়মিত হয়নি। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পরও জাতীয় দলের হয়ে আর সুযোগ পাননি তিনি। কিন্তু দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থেকেও তাঁর অনুশীলন ও প্রস্তুতিতে কোনও ছেদ পড়েনি—এটাই ঈশানকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে।

জাতীয় দলের বাইরে থাকা অবস্থায়ও একই রকম পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়া সহজ নয়। অনেক ক্রিকেটারের ক্ষেত্রেই এমন পরিস্থিতিতে অনুশীলনের তীব্রতা কমে যেতে পারে। কিন্তু শামিকে প্রতিদিন একই নিষ্ঠায় প্রস্তুতি নিতে দেখে তরুণ ক্রিকেটারদের শেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে বলে মনে করেন ঈশান।

এখন দলীপ ট্রফির ফাইনালই শামির সামনে সবচেয়ে বড় মঞ্চ। ১০০তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তাঁর বোলিং কেমন হয়, তার দিকে যেমন নজর থাকবে, তেমনই এই ম্যাচের পারফরম্যান্স জাতীয় দলে ফেরার লড়াইয়ে তাঁর দাবিকে আরও জোরালো করে কি না, সেটাও দেখার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন