নজরবন্দি ব্যুরো: দেশের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লার মজুত নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। Central Electricity Authority (CEA)-র তথ্য অনুযায়ী, ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৫০টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রয়োজনের অর্ধেকেরও কম কয়লা ছিল। বর্তমান মজুত ৮৫ শতাংশ Plant Load Factor (PLF)-এ হিসাব করলে প্রায় ৯ দিনের চাহিদা মেটাতে পারে।
CEA-র হিসাব বলছে, এই ৫০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২২৪ গিগাওয়াট। ২ সেপ্টেম্বর সেখানে মোট কয়লা মজুত ছিল প্রায় ২৮.২ মিলিয়ন টন। অথচ নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এই কেন্দ্রগুলিতে মজুত থাকার কথা ছিল প্রায় ৫৮.৭ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ প্রয়োজনের মাত্র ৪৮ শতাংশ কয়লা রয়েছে।
স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই কেন্দ্রগুলিতে প্রায় ১৯ দিনের কয়লা মজুত থাকার কথা। সেই তুলনায় বর্তমান স্টক প্রায় অর্ধেক। বিশেষ করে বিদ্যুতের চাহিদা যখন উঁচুতে রয়েছে, তখন দীর্ঘ সময় ধরে কয়লা সরবরাহে সমস্যা চললে উৎপাদন ক্ষমতার উপর চাপ তৈরি হতে পারে।
এই ঘাটতির পিছনে অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে বর্ষার প্রভাব। অতিবৃষ্টির কারণে কয়লা পরিবহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন তৈরি হচ্ছে। ফলে খনি বা সরবরাহ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রে দ্রুত কয়লা পৌঁছে দিয়ে ঘাটতি পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছে।
তবে এই তথ্যের অর্থ এই নয় যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। কয়লা মন্ত্রকের আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, কম মজুত থাকা কেন্দ্রগুলির পরিস্থিতি প্রতিদিন নজরে রাখা হচ্ছে এবং সেগুলিতে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহও করা হচ্ছে। ফলে আপাতত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
CEA-র হিসাবে ‘ক্রিটিক্যাল’ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলির কয়লা মজুত তাদের নির্ধারিত প্রয়োজনের ২৫ শতাংশেরও নিচে। ফলে সমস্যা শুধু সামগ্রিক মজুতের পরিমাণে নয়, নির্দিষ্ট কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ঘাটতির তীব্রতাতেও। বর্ষার কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দেরি হলে সেই চাপ আরও বাড়তে পারে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন, বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকা অবস্থায় কয়লা সরবরাহ কত দ্রুত স্বাভাবিক করা যায়। আগামী দিনগুলিতে সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, কিন্তু ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তাই ৫০টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নেমে আসা এই কয়লা মজুত আপাতত বিদ্যুৎ খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত।



