ভারতের বিরুদ্ধে ফের ব্যাটিং বিপর্যয় পাকিস্তানের। তবে এবার ধসের মাত্রা ছাপিয়ে গেল আগের সব নজির। দুবাইয়ে মহিলা এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ভারতীয় বোলারদের সামনে মাত্র ৫৫ রানেই গুটিয়ে গেল পাকিস্তান। মাত্র ১৮.১ ওভারে শেষ হয়ে যায় ফাতিমা সানার দলের ইনিংস।
এই ৫৫ রানই মহিলা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর। এর আগে তাদের সর্বনিম্ন ছিল ৫৬ রান, ২০২৪ সালে দুবাইয়েই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই রানেই অল আউট হয়েছিল পাকিস্তান। এবার সেই অনভিপ্রেত রেকর্ডও ভেঙে গেল ভারতের বিরুদ্ধে।
পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসের মূল কারণ ভারতীয় স্পিন আক্রমণ। চার স্পিনার মিলে তুলে নিয়েছেন ৯টি উইকেট। বাকি একটি উইকেট এসেছে রান আউট থেকে। অর্থাৎ পাকিস্তানের ১০টি উইকেটের একটিও ভারতীয় পেসারদের দখলে যায়নি।
ভারতের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার শ্রী চরণী। চার ওভারে মাত্র ৭ রান খরচ করে তিনটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। প্রোমা রাওয়াতও চার ওভারে ৯ রান দিয়ে তিন উইকেট তুলে নেন। দীপ্তি শর্মা ৫ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট, আর শেফালি বর্মার ঝুলিতে যায় একটি।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা। শুরুতে অবশ্য পরিকল্পনাটা খারাপ ছিল না। মুনিবা আলি ও তাঁর সঙ্গী মিলে প্রথম উইকেটে ২৭ রান যোগ করেন। প্রথম কয়েক ওভারে উইকেট বাঁচিয়ে এগোনোর চেষ্টা করছিল পাকিস্তান।
কিন্তু ভারতীয় স্পিনাররা আক্রমণে আসতেই বদলে যায় ম্যাচের ছবি। পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে শেফালি বর্মার হাতে মুনিবার উইকেট হারানোর পর শুরু হয় পতন। এরপর একের পর এক ব্যাটার ফিরে যেতে থাকেন সাজঘরে। শেষ পর্যন্ত ওপেনারদের বাইরে পাকিস্তানের আর কোনও ব্যাটার দুই অঙ্কের রানও করতে পারেননি।
দুবাইয়ের মন্থর উইকেটে ভারতীয় স্পিনের বিরুদ্ধে কার্যত কোনও উত্তর খুঁজে পাননি পাকিস্তানের ব্যাটাররা। কোথায় আক্রমণ করবেন, কোন বল ছাড়বেন, কীভাবে স্পিন সামলাবেন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা যায় অসহায়তা। ফলও আসে দ্রুত। ৫৫ রানেই থেমে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।
শ্রী চরণীর জন্যও ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচের আগে ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর উইকেটসংখ্যা ছিল ৩৪। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিন উইকেট নিয়ে সেই সংখ্যা আরও বাড়ালেন তিনি। এক বছরে ভারতীয় বোলারদের সর্বাধিক T20 উইকেটের নজিরের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছেন তরুণ এই স্পিনার।
এই ম্যাচে ভারতীয় বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় সাফল্য শুধু পাকিস্তানকে ৫৫ রানে আটকে দেওয়া নয়, বরং পুরো ইনিংসজুড়ে স্পিন দিয়ে প্রতিপক্ষকে কার্যত আটকে রাখা। ভারতীয় দলের স্কোয়াডেও শ্রী চরণী, প্রোমা রাওয়াত, দীপ্তি শর্মা ও রাধা যাদবের মতো স্পিন বিকল্প রয়েছে।
ফলে মহিলা এশিয়া কাপের গুরুত্বপূর্ণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে ব্যাট হাতে চূড়ান্ত ব্যর্থ পাকিস্তান। বিপরীতে ভারতের স্পিন আক্রমণ বুঝিয়ে দিল, কেন এই দলকে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন ৫৬ রানের আগের লজ্জার রেকর্ডও পেছনে ফেলে ৫৫ রানের নতুন নজির পাকিস্তানের জন্য কতটা বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়, সেটাই আলোচনার বিষয়।



