দুর্গাপুজো ২০২৬: ঘোড়ায় আসছেন মা দুর্গা, নৌকায় ফিরবেন! কী বার্তা দিচ্ছে দেবীর এবারের আগমন-গমন?

২০২৬ সালের দুর্গাপুজোয় দেবীর আগমন ও গমন ঘিরে বিশেষ কৌতূহল। প্রচলিত পঞ্জিকা মতে ঘোড়ায় আসবেন মা দুর্গা এবং নৌকায় ফিরবেন। জেনে নিন বাহনের অর্থ ও পুজোর দিনক্ষণ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজোর (Durga Puja) আর বেশি দেরি নেই। পুজোর প্রস্তুতি, প্যান্ডেল তৈরির কাজ এবং কেনাকাটার ব্যস্ততা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০২৬ সালে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপুজো। শাস্ত্রীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী, প্রতি বছর দেবীর মর্ত্যে আগমন এবং কৈলাসে প্রত্যাবর্তনের বাহন আলাদা হয়। প্রচলিত বিশ্বাসে সেই বাহনের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আগামী দিনের প্রকৃতি ও সমাজের জন্য বিশেষ ইঙ্গিত।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আসবেন মা দুর্গা। আবার নৌকায় চড়ে দেবীর গমন হবে। দেবীর আগমন ও গমনের এই দুই বাহনকে ঘিরে শাস্ত্র ও লোকবিশ্বাসে রয়েছে আলাদা ব্যাখ্যা। তাই এবারের দুর্গাপুজোয় দেবীর বাহন কী এবং তার তাৎপর্যই বা কী, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে ভক্তদের মধ্যে।

ঘোড়ায় আগমন, নৌকায় গমন—কী অর্থ?

প্রচলিত পঞ্জিকা মতে, মহাসপ্তমী কোন বারে পড়ছে, তার উপর নির্ভর করে দেবীর আগমন বাহন নির্ধারিত হয়। ২০২৬ সালে মহাসপ্তমী পড়ছে রবিবার। তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—দেবীর বাহন নির্ধারণের নিয়ম পঞ্জিকা ও প্রথাভেদে কিছুটা আলাদা ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। তাই নির্দিষ্ট পঞ্জিকার গণনাই অনুসরণ করা উচিত।

ঘোড়াকে দেবীর আগমন বাহন হিসেবে ধরা হলে প্রচলিত বিশ্বাসে তা সামাজিক অস্থিরতা, ছত্রভঙ্গ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত বহন করে। তবে এগুলি ধর্মীয় ও লোকবিশ্বাসভিত্তিক ব্যাখ্যা, কোনও বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস নয়।

অন্য দিকে, দেবীর গমন বাহন নির্ধারণ করা হয় বিজয়া দশমীর বারের ভিত্তিতে। ২০২৬ সালে বিজয়া দশমী পড়ছে বুধবার। প্রচলিত নিয়মে বুধবারের সঙ্গে নৌকা বাহনের সম্পর্ক রয়েছে। নৌকায় দেবীর গমনকে সাধারণত শস্যশ্যামলা বসুন্ধরা, ভালো ফলন, উর্বরতা এবং পর্যাপ্ত জলের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

বাহন নির্ধারণের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, রবিবার বা সোমবার সপ্তমী বা দশমী পড়লে দেবীর বাহন হয় হাতি। হাতিকে জলবৃদ্ধি, ভালো বৃষ্টি এবং সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। মঙ্গলবার বা শনিবার হলে বাহন ঘোড়া, যা সামাজিক অস্থিরতা ও ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত বলে মনে করা হয়।

বুধবারের সঙ্গে যুক্ত বাহন নৌকা। এই বাহনকে উর্বরতা, ভালো ফলন এবং শস্যসমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। আর বৃহস্পতিবার বা শুক্রবারের সঙ্গে দোলা বাহনের সম্পর্ক রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাসে দোলা মড়ক, রোগব্যাধি বা মহামারীর সংকেত বহন করে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সম্পূর্ণ সময়সূচি

২০২৬ সালে মহালয়া পড়ছে ১০ অক্টোবর, শনিবার। এই দিনেই পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনা হবে। বাঙালির কাছে মহালয়ার অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত ভোরবেলা মহিষাসুরমর্দিনী শোনা।

মহাষষ্ঠী ১৭ অক্টোবর, শনিবার। দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গাপুজোর মূল পর্ব।

মহাসপ্তমী ১৮ অক্টোবর, রবিবার। নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্নানের পর শুরু হবে সপ্তমীর পুজো। এই দিন থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের ভিড় আরও বাড়বে।

মহাঅষ্টমী ১৯ অক্টোবর, সোমবার। অষ্টমীর অঞ্জলি ও সন্ধিপুজো দুর্গাপুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। সকাল থেকেই বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে ভক্তদের ভিড় দেখা যাবে।

মহানবমী ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার। নবমীর পুজো ও আরতির মাধ্যমে দেবী আরাধনা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। বহু পুজোমণ্ডপে এই দিন বিশেষ আয়োজনও থাকে।

বিজয়া দশমী ২১ অক্টোবর, বুধবার। দর্পণ বিসর্জন, সিঁদুর খেলা এবং প্রতিমা নিরঞ্জনের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব। দেবীর নৌকায় গমনকে ঘিরে প্রচলিত বিশ্বাসে ভালো ফলন ও সমৃদ্ধির বার্তাও খুঁজে পান অনেকে।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের দুর্গাপুজো ঘিরে ইতিমধ্যেই বাঙালির মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে। ঘোড়ায় দেবীর আগমনকে ঘিরে যেমন নানা শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা রয়েছে, তেমনই নৌকায় গমনকে শুভ ফলন ও উর্বরতার প্রতীক হিসেবে দেখার প্রচলন রয়েছে। তবে এই বাহনগুলির সঙ্গে যুক্ত ভবিষ্যদ্বাণীগুলি ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকাভিত্তিক ব্যাখ্যা—বাস্তব ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন