কৌশিকী অমাবস্যায় কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে আমিষ বিতর্কে কার্যত নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে গিয়ে মায়ের পুজো দেন তিনি। পুজো শেষে মন্দিরের মাটিতে বসেই গ্রহণ করেন মায়ের ভোগ। আর সেই ভোগের মেনুতেই ছিল মাছের মাথা, মাছ ভাজা এবং বাসন্তি পোলাও।
এদিন কালীঘাট মন্দিরে জবার মালা ও লাল বেনারসি শাড়ি দিয়ে দেবীর পুজো করেন মুখ্যমন্ত্রী। মায়ের পা ধুয়ে দেন, অঞ্জলি দেন এবং পরে আরতিতেও অংশ নেন। পুজো শেষে মন্দিরেই মাটিতে বসে ভোগ গ্রহণ করেন তিনি।
ভোগের থালায় ছিল বাসন্তি পোলাওয়ের সঙ্গে মাছের মাথা ও মাছ ভাজা। ভোগ গ্রহণের পর মন্দির চত্বরে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যেও প্রসাদ বিতরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। কৌশিকী অমাবস্যার দিনে কালীঘাটে তাঁর এই ভোগ গ্রহণ ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মা যেন শক্তি দেন, দেশবিরোধী শক্তিকে যেন রাজ্য থেকে পরিষ্কার করতে পারি।” এরপরই উঠে আসে বাগেশ্বর বাবার আমিষ নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রসঙ্গ।
জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একজন সন্ত বাবা নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। যাঁর গ্রহণ করার, করবেন; না করার, করবেন না।” নিজের খাদ্যাভ্যাসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, অষ্টমীর দিন এবং কার্তিক মাসে তিনি সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করেন। আবার মায়ের মাছের ভোগ এবং পাঠা বলির প্রসাদও গ্রহণ করেন।
এদিনের ভোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মন্দিরে দেওয়া মাছের মাথা, মাছ ভাজা এবং বাসন্তি পোলাও তিনি খেয়েছেন। একইসঙ্গে তাঁর বার্তা, “সনাতন সংস্কৃতি জাগ্রত থাকবে। গেরুয়া ধ্বজ সবসময় উপরে থাকবে। কখনও নিচে নামবে না।”
দুর্গাপুজোর আগে বাংলায় এসে আমিষ নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু বাগেশ্বর বাবা। একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দুর্গাপুজোর সময় আমিষ খাওয়ার বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, পুজোর সময়ে যাঁরা আমিষ খান, তাঁরা ‘পাখণ্ডী’ বা ভণ্ড। দুর্গাপুজোর সময় আমিষ ত্যাগেরও পরামর্শ দেন তিনি।
বাগেশ্বর বাবার এই মন্তব্য ঘিরে পুজোর মুখে বাংলায় তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। তবে বিজেপি নেতৃত্বের একাংশও তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হননি। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, কোনও বহিরাগত সাধুর পরামর্শে বাঙালির সংস্কৃতি বা খাদ্যাভ্যাস বদলে যাবে না।
একই সুরে কথা বলতে দেখা যায় বিজেপির আরও কয়েকজন নেতাকেও। আমিষ খাবার নিয়ে বাঙালির দীর্ঘদিনের সংস্কৃতিতে কোনও হস্তক্ষেপের প্রশ্ন নেই—এমনই বার্তা উঠে আসে তাঁদের বক্তব্যে। সরকারের তরফেও এর আগে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করা হবে না।
তারপর কৌশিকী অমাবস্যার সন্ধ্যায় কালীঘাট মন্দিরে গিয়ে মাছের ভোগ গ্রহণ করে সেই অবস্থানকেই আরও স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী। ধর্মীয় আচার, বাঙালির সংস্কৃতি এবং খাদ্যাভ্যাস—এই তিনের মধ্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরে আমিষ বিতর্কে কার্যত পাল্টা বার্তা দিলেন তিনি।



