বিশ্বকর্মাপুজোর দখল ঘিরে এবিভিপি-র দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, বর্ধমানের কলেজে শৌচালয়ে লুকোলেন অধ্যক্ষ!

বিশ্বকর্মাপুজোর দায়িত্ব নিয়ে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউআইটিতে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের অভিযোগ। অধ্যক্ষের ঘরে ভাঙচুর, পড়ুয়া আহত, কলেজ বন্ধ ও হস্টেল খালি করার সিদ্ধান্ত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: বিশ্বকর্মাপুজোর আয়োজনের দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে উত্তেজনা ছড়াল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (University Institute of Technology)-তে। অভিযোগ, এবিভিপি-র দুই গোষ্ঠীর বিবাদ থেকে পরিস্থিতি সংঘর্ষে গড়ায়। কয়েক জন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ক্যাম্পাসে মোতায়েন করতে হয়।

ঘটনার জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হস্টেলও খালি করে দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুশীল কারফার্ফারের অভিযোগ, উত্তেজনার মধ্যে তাঁর ঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে, প্রাণের আশঙ্কায় তিনি শৌচালয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন বলে দাবি করেছেন।

বিশ্বকর্মাপুজোর আয়োজন নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত বলে জানা যাচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, পুজোর দায়িত্ব পাওয়ার জন্য দুই পক্ষই পৃথক ভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিল। কোনও একটি পক্ষকে একক ভাবে দায়িত্ব দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ঘেরাও করা হয় বলে অভিযোগ।

অধ্যক্ষের দাবি, কয়েক জন শিক্ষক এবং তাঁকে তাঁর ঘরের মধ্যে আটকে রেখেই দু’পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়। পরে সেই বচসা মারামারিতে গড়ায়। তাঁর ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে এবং বিভিন্ন নথি ও ফাইল তছনছ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অধ্যক্ষ এবং কয়েক জন শিক্ষক শৌচালয়ে আশ্রয় নেন বলে তাঁর দাবি। সেখান থেকেই তিনি পুলিশ এবং বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানিয়েছেন।

ঘটনাকে ঘিরে পড়ুয়াদের মধ্যেও পাল্টা অভিযোগ সামনে এসেছে। পড়ুয়া সৌরভকুমার সিংহের দাবি, চলতি বছর বিশ্বকর্মাপুজোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। এক পক্ষ প্রথমে অধ্যক্ষের অনুমতি পেলেও পরে অন্য পক্ষ সেই অনুমতি স্থগিত করার দাবি জানায় বলে তাঁর অভিযোগ।

এর পরেই কলেজ চত্বরে উত্তেজনা বাড়ে বলে দাবি ওই পড়ুয়ার। তাঁর অভিযোগ, কলেজের বাইরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির পর কয়েক জন বহিরাগত ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ুয়াদের উপর হামলা চালান। তাঁদের হাতে লাঠি ও রড ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীন ভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনায় আহত পড়ুয়াদের একাংশের দাবি, হামলায় জড়িত কয়েক জন নিজেদের এবিভিপি-র সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার সঙ্গে সাংগঠনিক যোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

এবিভিপির বর্ধমান মহানগরের সম্পাদক সুশোভন চৌধুরীর দাবি, ইউআইটির ঘটনা তাদের সাংগঠনিক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত নয়। তাঁর বক্তব্য, ওই কলেজে এবিভিপির কোনও সংগঠনই নেই। কেউ নিজেকে সংগঠনের সমর্থক বা কার্যকর্তা বলে পরিচয় দিলেই তাঁকে সাংগঠনিক কার্যকর্তা হিসেবে গণ্য করা যায় না।

সুশোভনের কথায়, সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত ভাবে কোনও ঘটনায় জড়িয়ে পড়লে তার দায় এবিভিপি নেবে না। তবে তদন্তে যদি সংগঠনের কোনও কার্যকর্তার সরাসরি যোগ প্রমাণিত হয়, সেক্ষেত্রে সংগঠনের তরফেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবিভিপি। বিশেষ করে বহিরাগতেরা কী ভাবে কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকলেন, তা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন সংগঠনের বর্ধমান মহানগরের সম্পাদক। তাঁর বক্তব্য, তদন্তে যদি কোনও এবিভিপি সদস্যের সঙ্গে বহিরাগতদের যোগ পাওয়া যায়, তাঁদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, সংঘর্ষের পর কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতির গুরুত্বকেই সামনে এনেছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার উত্তরও তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে। আপাতত বিশ্বকর্মাপুজোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিবাদে কলেজের স্বাভাবিক পঠনপাঠন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পড়ুয়াদের উপরই তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন