নজরবন্দি ব্যুরোঃ নিজের ভাই ও তাঁর স্ত্রীকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার টোপ দিয়েছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। সেকারণেই তাঁদের থকে নিয়েছিলেন পরিচয়পত্র। এমনকি তাঁদের অজ্ঞাতেই দুর্নীতির টাকা পাচারের জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলেছিল মানিক। তাঁদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ টাকা পাচার হয়েছে। এবিষয়ে কেউই অবগত ছিলেন না। ইডির জিজ্ঞাসাবাদে এমনটাই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ Suvendu-Kunal: ডিসেম্বর নাকি জানুয়ারি, তারিখ পে তারিখ খেলা বঙ্গ রাজনীতিতে
এবিষয়ে মানিকের ভাই ও ভ্রাতৃবধুকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। ইডির আধিকারিকদের দাবি, তাঁর সামনে ৬ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, যাতে রেকারিংয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা রাখা হয়েছিল। যা দেখে তাজ্জব মানিকের পরিবারেরই সদস্যরা। দেখা যায় একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে চার দফায় মোট ২৭ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছে। মহিলার দাবি, তাঁর সই জাল করে এই কাজ করা হয়েছে। জানা গেছে, মানিকের ভাইয়ের স্ত্রীর নামে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ৬ টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এমনটাই খবর সূত্রে।

সূত্রে খবর, মানিকের ভাইয়ের বউয়ের অভিযোগ, ২০১০ সালে বিদেশে ভ্রমণ করতে যাওয়ার নাম করে টোপ দিয়েছিলেন মানিক। তাঁদের সমস্ত পরিচয়পত্রের কপি নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এমনকি পাসপোর্টে আবেদনের জন্য সাদা পাতায় সই করানো হয়েছিল। এমনকি জয়েন্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য মানিক জোর করে নিয়েছিল। পরে সেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন মানিকের ভাইয়েরা। অভিযোগ, সই জাল করে টাকা পাচার করত মানিক।

উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি সম্পর্কে তদন্ত করতে নেমে মানিক সম্পর্কে একাধিক তথ্য হাতে পেয়েছে ইডি। তাঁর পরিবারের সদস্যদের একাধিক অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের টাকার লেনদেন সম্পর্কে হদিশ মিলেছে। এমনকি মানিকের কাছ থেকে যে হার্ডডিস্ক উদ্ধার হয়েছে, সেখান থেকে প্রভাবশালী নেতাদের যোগ রয়েছে বলে মনে করছে তদন্তকারী অফিসাররা।
সই জাল করে টাকা পাচার করত মানিক, মুখ খুলল পরিবারের সদস্যরাই!

ইতিমধ্যেই মানিকের বিষয়ে ১৬০ পাতার চার্জশিট জমা করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই প্রেক্ষিতে তুলে ধরা হয়েছে ৬ হাজার পাতার একটি নথি। সেখানে একের পর এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা। আগামী দিনে মানিক সম্পর্কে আর কী কী তথ্য তুলে ধরে ইডি? সেটাই দেখার।



