একনাথ শিবিরের তরফে দাবি করা হচ্ছে ৩৮ জন বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে রয়েছে, তাই মহারাষ্ট্রের বর্তমান সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। সরকার বদলের হুঁশিয়ারি শিন্ডের, এর পরেই পদক্ষেপ নিলেন উদ্ধব ঠাকরে। মন্ত্রীসভায় বদল ঘটিয়ে বিক্ষুব্ধদের কাছ থেকে মন্ত্রক কেড়ে নিলেন তিনি।
মহারাষ্ট্রে দুই শিবিরের লড়াইয়ে আড়াআড়ি ভাবে বিভক্ত শিবসেনা। ১৬ বিধায়কদের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে সরব হচ্ছে উদ্ধব ঠাকরে শিবির। অন্যদিকে, বিধায়কদের সদস্য পদ টিকিয়ে রাখ্যতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল একনাথ শিন্ডে শিবির। একইসঙ্গে অজয় চৌধুরীকে পরিষদীয় দলনেতা করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও সুপ্রিম কোর্টের মামলা করলেন শিন্ডে। সূত্রের খবর, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই মামলার শুনানি।
গতকাল থেকেই বারবার নিরাপত্তার দাবি তুলছিলেন শিবসেনার বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেতারা। আজ সেই বিধায়কদের পরিবারগুলিকে দ্রুত নিরাপত্তার দাবি মহারাষ্ট্র পুলিশের ডিজিপিকে চিঠি দিলেন রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারি। তাঁর বক্তব্য, শিন্ডে শিবিরের বিধায়কদের নিরাপত্তা দেওয়া হোক। সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্র নিয়ে যে নাটকীয় পর্ব শুরু হয়েছে তা কোনও অংশের বলিউড ছবির থেকে কম কিছু নয়।
গতকালের দলীয় বৈঠকে উদ্ধব ঠাকরে পরিষ্কার করে দিয়েছেন চাইলে বিক্ষুব্ধরা চলে যান। তিনি নিজে নতুন করে শিবসেনা গঠন করবেন। ঠিক তার পরেই বৈঠকে বসল একনাথ শিন্ডে বাহিনী। বড় চাল শিন্ডের। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে স্থির হয়েছে, নিজেদের দলের নাম ‘শিবসেনা বালা সাহেব’ রাখতে চলেছেন বিক্ষুব্ধ বিধায়করা।
সকাল বেলায় ৪০ এর অধিক বিধায়ক নিয়ে গুয়াহাটিতে উপস্থিত হয়েছেন মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। তাই সরকার সামলাতে গিয়ে ঘাম ছুটছে শিবসেনার নেতাদের। এরই মধ্যে শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউতের ট্যুইট ঘিরে জল্পনা। তিনি বলেন, গুয়াহাটি থেকে উদ্ধভ সরকার ভাঙার পরিকল্পনা শিন্ডের।
মঙ্গলবারই বিক্ষুব্ধদের রাজি করাতে সুরাত পৌঁছাল উদ্ভবের দুই দূত। মিলিন্দ নারভেকর এবং সাংসদ রঞ্জন ভিকারেদের পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সুরাতে মন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সঙ্গে দেখা করতে চান তাঁরা। অন্যদিকে বিক্ষুব্ধ শিবিরের তিন বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধভ ঠাকরের সঙ্গে দেখা করেছেন।