অনুব্রত মণ্ডলের পাশাপাশি ইডির জালে তাঁর হিসেবরক্ষক মণীশ কোঠারি। কিছুদিন আগেই তাঁকে গ্রেফতার করার পর যে সমস্ত তথ্য ইডির হাতে উঠে এসেছে, তা চমকে যাওয়ার মতো। সূত্রের খবর, বোলপুরের বুকে ১৫ কোটি টাকার সম্পত্তি কেষ্টর হিসেবরক্ষকের। এত বিপুল সম্পত্তি কী গরু পাচারের টাকায়? প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ইডি সূত্রে খবর, ওই পুলিশ অফিসারের সন্ধান মিলেছে। সেখান থেকে স্পষ্ট হয়েছে, নিম্ন ও উচ্চ আদালতে মামলা লড়াইয়ের জন্য টাকা আসছে ওই অফিসারদের থেকেই। খরচ হওয়া সেই টাকার পরিমাণ ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা বলেই মনে করা হচ্ছে। ইডি সূত্রে খবর, গরু পাচারের বিশাল টাকা এখনও ওই পুলিশ অফিসারের কাছে রয়েছে। সেই টাকা থেকেই কেষ্টর আইনি লড়াইয়ের টাকা জোগাচ্ছেন পুলিশ অফিসার!
গরু পাচার মামলায় এবার তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেনকে তলব করল ইডি। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের বিধায়ককে আগামী সপ্তাহেই সমস্ত নথি নিয়ে তলব করা হয়েছে। জানা গেছে, ২ মার্চ তাঁকে এবিষয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেবারে হাজিরা এড়িয়ে গেছেন তিনি। তাই এবার তলব করা হয়েছে তাঁকে। সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগণার এক তৃণমূল নেতাকেও ডেকে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার তাঁকে দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে পেশ করে ইডি জানায়, মণীশ কোঠারি সবটা জানে। এরপরেই ৬ দিনের হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। সংবাদ মাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন কেষ্টর হিসেবরক্ষক। ধরা ধরা গলায় বললেন, ‘আমি কিচ্ছু করিনি। আমি একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। এটাই আমার ভুল।’
ইডি সূত্রে খবর, গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী সায়গল হোসেন অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ দিয়েছে। এমনটাই দাবি করছে তদন্তকারী সংস্থা। একইভাবে অনুব্রতর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠদের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তেমনই সায়গল হোসেনের বক্তব্যকেও হাতিয়ার করতে চলেছে তদন্তকারী সংস্থা।