‘মমতার হারের প্রতিশোধেই ছেলেকে খুন’, কান্নায় ভেঙে পড়ে বিস্ফোরক দাবি চন্দ্রনাথের মায়ের

চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় বিস্ফোরক অভিযোগ তাঁর মায়ের। সিসিটিভি ফুটেজ ঘেঁটে তদন্তে সিআইডি, রাজনৈতিক প্রতিশোধের তত্ত্ব ঘিরে চাঞ্চল্য।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল। ছেলের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন চন্দ্রনাথের মা হাসি রানী রথ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাঁর দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর প্রতিশোধ নিতেই আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে।” যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি, তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ-সহ একাধিক তথ্য খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন।

বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় গুলি করে খুন করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে। ঘটনার প্রায় ১০ ঘণ্টা কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্তদের খোঁজ মেলেনি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে একাধিকবার পৌঁছেছেন তদন্তকারীরা। সিআইডি-র একটি বিশেষ দলও এলাকা ঘুরে দেখেছে এবং ফরেনসিক তথ্য সংগ্রহ করেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই হামলাকারীদের গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে। ঘটনাস্থল ঘিরে এখনও কড়া নিরাপত্তা রয়েছে।

‘মমতার হারের প্রতিশোধেই ছেলেকে খুন’, কান্নায় ভেঙে পড়ে বিস্ফোরক দাবি চন্দ্রনাথের মায়ের
‘মমতার হারের প্রতিশোধেই ছেলেকে খুন’, কান্নায় ভেঙে পড়ে বিস্ফোরক দাবি চন্দ্রনাথের মায়ের

এদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরে চন্দ্রনাথের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আত্মীয়-পরিজন এবং স্থানীয়দের ভিড়ে বারবার ভেঙে পড়ছেন তাঁর মা হাসি রানী রথ। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি সরাসরি তৃণমূলকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, “সবটাই পরিকল্পিত। যারা বলেছিল চার তারিখের পর কেউ বাঁচাতে পারবে না, তারাই আজ সেটা করে দেখাল।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের নেতা এখন শান্তি বজায় রাখার কথা বলছেন। কিন্তু যাঁরা আগুনঝরা ভাষণ দিয়েছিলেন, তাঁরা প্রতিশোধ নিয়েছেন। আমি নতুন সরকারের কাছে আবেদন করছি, যারা আমার ছেলের মৃত্যুর পিছনে রয়েছে, তাদের কঠোর শাস্তি হোক।”

ছেলের রাজনৈতিক সক্রিয়তার কথাও উল্লেখ করেন হাসি রানী দেবী। তাঁর দাবি, ভবানীপুর, নন্দীগ্রাম এবং চণ্ডীপুর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এলাকায় দায়িত্বে ছিলেন চন্দ্রনাথ। সেই কারণেই তিনি ‘টার্গেট’ হয়ে উঠেছিলেন বলে মনে করছেন পরিবারের সদস্যরা।

তবে এখনও পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থার তরফে খুনের নেপথ্যে রাজনৈতিক যোগের বিষয়ে কোনও সরকারি মন্তব্য করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত