গরু পাচার মামলায় ইডির হেফাজতে দিল্লিতেই রয়েছেন বীরভূম তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। প্রথম দফায় তাঁর ৩ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। এবার তাঁর হেফাজতের মেয়াদ আরও ১১ দিন বাড়িয়ে দিল দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। এখনও বাকি রয়েছে অনেক প্রশ্ন, কেষ্টকে ১১ দিনের হেফাজতে নিল ইডি।
এই মুহুর্তে জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল জেলবন্দী। তাঁর দিল্লি যাত্রার পরে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ফেরা একপ্রকার অনিশ্চিত। সেই অনুব্রত মণ্ডল না থাকলেও নির্বাচনে কোনও অসুবিধা হবে না। এমনটাই মন্তব্য করে বসলেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। তাঁর কটাক্ষ, কীভাবে ভোট করাতে হয়, দলের নেতারা ভালো করেই জানেন।
২০১৪ সালে নভেম্বর মাসে ৬ দিনে ৬ কোটি টাকার সম্পত্তি নগদে কিনেছিলেন কেষ্ট। বোলপুরের কালিকাপুর মৌজায় সম্পত্তি কেনেন তিনি। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ এল কোথা থেকে? আবার ২০১৫ থেকে ২০১৮ অবধি কীভাবে সম্পত্তির বৃদ্ধি হয়েছিল? সেবিষয়েও খোঁজ নিতে চায় তদন্তকারী সংস্থা।
একটা অনুব্রত গেছে, হাজারটা দেবাংশু-মদন মিত্র তৈরি হয়েছে। আমাকে দিলে আমি বীরভূমে একমাস থেকে ভোট করতে রাজি আছি। অনুব্রতর হাতে তৈরি করা মাটি। সেটা বদলায়নি। অনুব্রত মণ্ডলকে ইডি দিল্লি নিয়ে যেতেই বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র।
ইডি সূত্রে খবর, বীরভূমের হাট থেকে প্রতি সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার গরু পাচার হত বলে জানা গেছে। সেখান থেকেই প্রতি মাসে কম করে ৫ কোটি টাকা করে প্রোটেকশন মানি পেত কে? তা জানার জন্যেই অনুব্রতকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ইডি।
শিরোনামে রয়েছেন বীরভূম তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তা নিয়ে কটাক্ষ করতে বিন্দুমাত্র পিছপা হননি বিরোধী দলের নেতারা। কেষ্টর দিল্লি যাত্রা নিয়ে কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের। তাঁর কথায়, এবার বুঝতে পারবেন দিল্লির লাড্ডু কি জিনিস। পশ্চিম বাংলার রাজনীতির এখন ক’দিন একটু হালকা হয়ে যাবে সাধারণ মানুষ আর কোনও খবর পাবে না।
কেষ্টকে জিজ্ঞাসবাদের জন্য তৈরি হয়েছে ৬ সদস্যের একটি টিম। যার নেতৃত্বে ইডির স্পেশাল ডিরেক্টর সনিয়া নারাং। দিল্লি অফিসে অনুব্রত মণ্ডলকে জেরা করবেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, অনুব্রতকে জিজ্ঞাসাবাদে এনামুল-সায়গলদের বয়ানকেই হাতিয়ার। বিপুল অঙ্কের লেনদেন খুঁজছে ইডি।