বহরমপুরের কোথাও বসে কি মুচকি হাসছেন অধীর চৌধুরী? এই সময়টা হয়তো তিনিও দিল্লিতে থাকতেন। এবার সংসদ টিভিতে বসে সাংসদদের শপথবাক্য পাঠ করা দেখেই মুহূর্ত কাটাতে হচ্ছে। রাজনীতিতে সেই অর্থে পা না রেখেই তৃণমূলের ছত্রছায়ায় তাঁকে হারিয়ে দিয়েছেন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। শপথও নিয়েছেন আজ। শেষে তাৎপর্যপূর্ণভাবে বলেছেন, ‘জয় বাংলা জয় গুজরাত!’ বহরমপুরের রবিনহুডের কাছে আজ হয়তো সবটাই ফ্যাকাশে। কিন্তু তার মধ্যেই মঙ্গলবার, খাঁ খাঁ মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে যেন মরীচিকা দেখলেন অধীর।
আরও পড়ুন: রাজ্যে শপথ-নাট্য জারি, বোসের চিঠি পেয়েই বিমানের দরবারে সায়ন্তিকারা
সবে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে লোকসভার বিশেষ অধিবেশন। আর দ্বিতীয়দিনেই যেন তাল কাটল ইন্ডিয়া জোটের। নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে মতানৈক্য প্রকাশ্যে এল। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা জোড়াফুল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ অভিযোগ তুললেন, কংগ্রেস তাঁদের স্পিকার পদে কে সুরেশকে মনোনীত করার বিষয়টা আগে থাকতে শরিক দল হিসাবে জানানোর প্রয়োজনটুকু মনে কররেনি।


এর জবাব যদিও রাহুল গান্ধী কেবল একটি শব্দবন্ধে দিয়েছেন, ‘জয় সংবিধান!’ সংসদের ভিতরে রাহুল ও অভিষেককে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা গিয়েছে। সেখানেও তৃণমূল সাংসদকে ছবিতে কিছুটা উত্তেজিতই দেখিয়েছে। প্রথম সারিতেই বসেছিলেন দু’জন। রাহুলকেও হাত নেড়ে কথা বলতে দেখা যায়।

আগামীকাল, বুধবার স্পিকার নির্বাচন। একদিকে এনডিএ প্রার্থী বিজেপির ওম বিড়লা। অন্যদিকে, কংগ্রেসে কে সুরেশ। এবার ভোটের মাধ্যমে স্পিকার নির্বাচিত হবে। এনডিএ-এর ২৯৩ জন বনাম ইন্ডিয়ার ২৩৪ জন। অসম লড়াই। তাও আবার যদি ইন্ডিয়ার পক্ষে কংগ্রেস প্রার্থীকে তৃণমূল উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো ভোটদানে বিরত থাকে তাহলে ওম বিড়লার দ্বিতীয়বারের জন্য স্পিকার হওয়া সময়ের অপেক্ষা। অবশ্য, অভিষেক এও জানিয়েছেন, দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদরা একটি বৈঠকে বসলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


শুরুতেই তৃণমূল-কংগ্রেস মতানৈক্য, বাংলাকে অধীরের হাতেই রাখছেন রাহুল!

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করেন, কংগ্রেস যদি সত্যিই না জানিয়ে জোটের তরফে স্পিকার প্রার্থী ঘোষণা করে থাকেন তাহলে সেটা রাহুল যতই মুখে ‘জয় সংবিধান’ বলুন না কেন, তা উচিৎ হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল যদি সত্যি সত্যিই ভোটদানে বিরত থাকে, তাহলে রাহুল গান্ধী যতই সংক্ষেপে উত্তর দিন না কেন তিনি চাইবেন না আর অন্তত আপোষ করতে। কিন্তু, কি বা করার থাকতে পারে তাঁর তৃণমূলের বিরুদ্ধে!
প্রথম থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে আপোষের মেজাজেই কংগ্রেস হাইকমান্ড। ইন্ডিয়া জোটের স্বার্থে। দেশের স্বার্থে, একটা রাজ্য হিসাবে এই মুহূর্তে জোটসঙ্গীর ক্ষমতাধীন বাংলাকে হারাতেও তাঁরা প্রস্তুত। বরং অন্য রাজ্যগুলোতে আরও ভালো ফল করতেই কংগ্রেস বেশি আশাবাদী। কিন্তু, এক্ষেত্রে যদি অন্তত কিছুটা ‘নরমপন্থী’ মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসেন রাহুল, তাহলে বাংলায় অধীর চৌধুরীকেই আর এক বার প্রদেশ সভাপতির পদে রাখতে পারেন।

এবার অধীর শুধু হেরেছেন তাই নয়, প্রদেশ সভাপতি পদ হারাতে হারেন এরকমও আশঙ্কা। কারণ, কেন্দ্রের কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধাচারণ চায় না। অধীর দীর্ঘদিন ধরে তা করে আসছেন। সঙ্গে আবার বামেদের নিচ্ছেন! তৃণমূল সুপ্রিমোর এসব একেবারেই না পসন্দ! সঙ্গে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলছেন অধীর।
এমতাবস্থায় মৌলালির যুবকেন্দ্রে একটি বৈঠক হয় বঙ্গ কংগ্রেসের। কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক মীর গুলাম আলি ছিলেন। প্রদেশ সভাপতি পদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দৌড়ে অনেকেই রয়েছেন। এই মুহূর্তের একমাত্র সাংসদ মালদহ দক্ষিণের ইশা খান চৌধুরী, প্রাক্তন সভাপতি তথা লোকসভায় কলকাতা উত্তরের প্রার্থী প্রদীপ ভট্টাচার্য, পুরুলিয়ার নেপাল আহাতো প্রমুখ। যদিও সূত্রের খবর, বাংলার সিংহভাগ কংগ্রেস নেতারা রয়েছেন অধীরের পক্ষেই।







