মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আকাশপথে বাড়ছে অনিশ্চয়তা, আর তার সরাসরি ধাক্কা এসে পড়েছে ভারতের বিমান শিল্পে। জেট ফুয়েলের লাগামছাড়া দাম এবং একাধিক আন্তর্জাতিক রুটে বিঘ্নের কারণে বড় সঙ্কটে পড়েছে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলি। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার জরুরি ভিত্তিতে ৫০০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে এই বিশেষ প্যাকেজ।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, ‘এমারজেন্সি ক্রেডিট লাইন গ্যারান্টি স্কিম ৫.০’-এর আওতায় বিমান সংস্থাগুলিকে ঋণ আকারে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর মূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় বিমান পরিষেবার খরচ বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তার উপর পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে একাধিক আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাধা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।


সরকারি সূত্রে খবর, প্রতিটি বিমান সংস্থা সর্বাধিক ১,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। পাশাপাশি, সংস্থাগুলি সমপরিমাণ মূলধন বিনিয়োগ করলে অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সহায়তাও মিলতে পারে। এই ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ সাত বছর। তবে প্রথম দু’বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, বর্তমান সঙ্কটের সময়ে বিমান শিল্পকে টিকিয়ে রাখতেই এই বিশেষ স্কিম চালু করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিমান সংস্থাগুলির উপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই এই পদক্ষেপ।”
এর আগে দেশের প্রধান বিমান সংস্থাগুলির সংগঠন ‘ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স’ (FIA) কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছিল, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে একাধিক রুটে পরিষেবা বন্ধ করতে হতে পারে। সংগঠনের দাবি ছিল, জেট ফুয়েলের খরচ এতটাই বেড়েছে যে বহু আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুট আর লাভজনক থাকছে না।


বর্তমানে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের দাম প্রতি কিলোলিটারে ২ লক্ষ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়েছে বলে শিল্পমহলের দাবি। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তার প্রভাব পড়তে পারে বিমান ভাড়া, উড়ানের সংখ্যা এবং গোটা বিমান পরিষেবা ব্যবস্থার উপর।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তা আপাতত কিছুটা স্বস্তি দিলেও, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক রুট স্বাভাবিক করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।







