অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তিতে জাতীয়তাবাদী আবেগ ফের উস্কে দিল কেন্দ্র। নিজের এক্স হ্যান্ডলের প্রোফাইল ছবি বদলে অপারেশন সিঁদুরের লোগো ব্যবহার করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই দিনে ভারতীয় বায়ুসেনার প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে উঠে এল কড়া বার্তা— “ভারত কিছুই ভোলে না, ভারত ক্ষমাও করে না।” পহেলগাম জঙ্গি হামলার পাল্টা অভিযানের এক বছর পূর্তিতে কেন্দ্রের এই অবস্থান ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী মোদীর এক্স প্রোফাইলে দেখা যায় অপারেশন সিঁদুরের বিশেষ লোগো। গত বছর ৭ মে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটিতে ভারতের সেনা অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পরেই এই প্রত্যাঘাতমূলক অভিযান চালানো হয়েছিল।


শুধু প্রোফাইল ছবি বদল নয়, ভারতীয় সেনার ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এক্স-এ পোস্ট করা বার্তায় তিনি লেখেন, “অপারেশন সিঁদুর ভারতের বীর সেনাদের সাহস, দেশপ্রেম এবং কর্তব্যনিষ্ঠার এক অনন্য উদাহরণ। তাঁদের দৃঢ় সংকল্পের জন্য গোটা দেশ গর্বিত।”

একই দিনে ভারতীয় বায়ুসেনাও একটি বিশেষ ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে দৃশ্যমান হয় সীমান্ত সংঘর্ষ, যুদ্ধবিমান এবং সামরিক প্রস্তুতির নানা মুহূর্ত। ভিডিওর শেষে স্পষ্ট বার্তা— “Operation Sindoor. Justice Served. India Never Forgets. India Never Forgives.”
ভিডিয়োতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর পুরনো একটি বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগামের হামলার পর তিনি বলেছিলেন, “প্রত্যেক জঙ্গি এবং তাদের মদতদাতাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেবে ভারত।”


সামরিক সূত্রে জানা গিয়েছিল, গত বছরের ৭ মে ভোরে ভারতীয় বাহিনী দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালায়। এর পর পাকিস্তানও পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করে। যদিও ভারত সরকার দাবি করেছিল, সেই হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয় এবং পাল্টা জবাবও দেওয়া হয়।
সংঘর্ষের সময় আকাশসীমায় ভারতীয় বায়ুসেনার আধিপত্যই পাকিস্তানকে চাপে ফেলে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে ইসলামাবাদের তরফেই সংঘর্ষবিরতির বার্তা আসে বলে দাবি ভারতের। শেষ পর্যন্ত গত বছর ১০ মে থেকে কার্যকর হয় যুদ্ধবিরতি।
অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তিতে কেন্দ্রের এই প্রতীকী ও কড়া বার্তা স্পষ্ট করে দিল— জাতীয় নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে সরকার এখনও আগ্রাসী অবস্থানেই রয়েছে।







