আটকে থেকে নাগরিকদের নিয়েই গতকাল ফের পুতিনের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। খারকিভের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মোদীর উদ্বেগ প্রকাশের পরেই বিশেষ পরিকল্পনা নেয় রাশিয়া। ভারতীয় নাগরিকদের সেফ প্যাকেজের মাধ্যমে ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্তে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয় তাদের তরফে।
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনের সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ জনগণেরও মৃত্যু হচ্ছে। এরই মধ্যে চলমান সঙ্ঘাতে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে 'ইউক্রেনের স্বপ্ন’, বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিমান এএন-২২৫। যুদ্ধে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার সেনা এবং ২ হাজার সাধারণ মানুষের। ঘরছাড়া প্রায় ৯ লক্ষ মানুষ।
যুদ্ধে অংশগ্রহণ নয়, পুতিনকে শায়েস্তা করতে অন্য পন্থা বাইডেনের! পুতিনকে স্বৈরাচারী আখ্যা দিয়ে তিনি রাশিয়ার বিমানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কড়া ভাষায় মস্কোর সমালোচনা করে বাইডেন জানান, ইউক্রেনের পাশেউই রয়েছে আমেরিকা। তবে মার্কিন সেনা এই যুদ্ধে অংশ নেবে না বলেও তিনি জানান।
প্রেসিডেন্ট পুতিন ২ মার্চের মধ্যেই জয়ের মধ্য দিয়ে এ অভিযান শেষ করতে চান। কিন্তু তা যে হচ্ছে না এই বিষয় স্পষ্ট। ইউক্রেনের দুর্দান্ত লড়াই সকলের প্রত্যাশা ছাপিয়ে গিয়েছে। যেভাবে দেশটির বায়ুসেনা ও স্থলসেনা লড়াই করছে তা তাক লাগানো।
বলাবাহুল্য,ইউক্রেনে হামলা চালানো আগে বেলারুশেই অবস্থান স্পষ্ট ছিল রুশ বাহিনীর। সেখানেই নাকি জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছিল পুতিন। তবে সেখানেই শেষ নয়। লুকাশেঙ্কোর বেলারুশ ভূমেই নাকি পারমাণবিক কেন্দ্র তৈরি করে ইউক্রেন হামলার ছক তৈরি করেছিল মস্কো।
বিদেশ মন্ত্রকের সূত্রে জানা গিয়েছে ইউক্রেনে ভারতের প্রায় ১৮,০০০ জন নাগরিক আটকে পড়েছে। এর মধ্যে ১৬,০০০ জনই পড়ুয়া। তাদের মধ্যে কয়েক হাজার জন নাগরিককেই ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
আকাশ ছোঁয়া ভোজ্য তেল, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নাভিশ্বাস মধ্যবিত্তের। স্বাভাবিক ভাবেই দুই দেশ যুদ্ধ শুরু করায় সানফ্লাওয়ার অয়েলের সরবরাহ ধাক্কা খাবে বিশ্ব বাজারে। যার জেরে বাড়বে দাম। ভারতে যেহেতু ৯০ শতাংশ সানফ্লাওয়ার অয়েলেই রাশিয়া এবং ইউক্রেন থেকে আমদানি করা হয়, তাই এ দেশে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা আরও বেশি।