বুধবার ফের একবার সাজো সাজো রব তৃণমূল কার্যালয়ে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়া হল জেলা কোর কমিটির একাধিক তৃণমূল নেতার ছবি। অনুব্রত জেলে যাবার পর যে কমিটি তৈরি করে দেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
রচনা বলেন, "যেটা হয়েছে, খুব খারাপ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের গুরুজন। উনি এই বিষয়ে যা বলেছেন, আমি তার চেয়ে আর বেশি কিছু বলব না। কুইন্টাল কুইন্টাল জল বেরিয়ে আসছে! মানুষের ঘরবাড়ি কিচ্ছু নেই। সবাই রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন। আর ডিভিসি বলছে, ওরা নাকি আমাদের জানিয়ে জল ছেড়েছে।"
মধ্যমগ্রামে একটি পুজোর বৈঠকে নারায়ণ বলেন, "যেখানে খিচুড়ি ভোগ দেওয়া হতো না, সেখানে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। যেখানে বাউল গান হত না, সেখানে একদিন বাউল গান দিতে হবে। পুজো কমিটির কাছে আমার অনুরোধ, আমি সব ধরনের সাহায্য করতে রাজি আছি। গত বছর যে আলো ছিল এবার তার থেকেও বেশি হবে।"
প্রশাসনিক বৈঠকে বীরভূমে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুব্রত মণ্ডলের বাড়ি থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহে প্রশাসনিক বৈঠক করলেন তিনি। সেই মঞ্চ থেকেও একবারের জন্য মুখে আনলেন না কেষ্টর নাম। এমনকি যে সম্ভাবনা নিয়ে সারাদিন চর্চা হচ্ছিল, আজ অনুব্রতর সঙ্গে মমতার সাক্ষাৎ হতে পারে। সেটাও কিন্তু বাস্তবায়িত হল না।
টাকা নিয়ে অযোগ্যদের চাকরি পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে আবাস যোজনার টাকা তছরুপ, মার্কেটের বিভিন্ন দোকান থেকে তোলাবাজি সহ অবৈধ নির্মাণের ছাড়পত্র, মালবাজার পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই।
গরু পাচার মামলায় ২০২২ সালের ১১ অগস্ট বোলপুরের বাড়ি থেকে অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেফতার করে সিবিআই। এরপরেই মমতা সাফ বলেন, কেষ্টকে বীরের সম্মান দিয়ে ফিরিয়ে আনব। আর আজ কার্যত তাই হতে চলেছে। প্রথমে খবর ছিল, প্রশাসনিক বৈঠকেই অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে দেখা হবে তৃণমূলনেত্রীর। কিন্তু, জানা গিয়েছে, প্রশাসনিক বৈঠকের পর সরকারি গেস্ট হাউস ‘রাঙাবিতান’-এ অনুব্রত যাবেন মমতার সঙ্গে দেখা করতে।
গরু পাচার মামলায় দীর্ঘ দু'বছর জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে জামিন পেয়েছেন বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল। মঙ্গলবার তিনি ফিরলেন বোলপুরে নিজের বাড়িতে। সোমবার তিহাড় জেল থেকে বেরোনোর সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন মেয়ে সুকন্যা মন্ডল।