মঙ্গলবার সকাল থেকে পুরো লাইমলাইট ছিল বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের দিকে। দু’বছর পর তিনি ফিরলেন নিজের বাড়িতে। নিজে কাঁদলেন, কাঁদালেন দলীয় কর্মীদের। স্লোগান, পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানাল তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা। কিন্তু যে বিষয়টা নিয়ে আজ সারাদিন চর্চা ছিল, সেটা কিন্তু কার্যত হল না।
প্রশাসনিক বৈঠকে বীরভূমে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুব্রত মণ্ডলের বাড়ি থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহে প্রশাসনিক বৈঠক করলেন তিনি। সেই মঞ্চ থেকেও একবারের জন্য মুখে আনলেন না কেষ্টর নাম। এমনকি যে সম্ভাবনা নিয়ে সারাদিন চর্চা হচ্ছিল, আজ অনুব্রতর সঙ্গে মমতার সাক্ষাৎ হতে পারে। সেটাও কিন্তু বাস্তবায়িত হল না। অনেকে মনে করছেন, দিদির সঙ্গে কেষ্টর দূরত্ব তৈরি হয়েছে! কিন্তু আসলে কি তাই? নাকি সুকৌশলে ইচ্ছাকৃতভাবে আজ অনুব্রত-সাক্ষাৎ থেকে বিরত থাকলেন তৃণমূলনেত্রী?


রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুব্রত মণ্ডল মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অত্যন্ত স্নেহের পাত্র সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তাই আজ চাইলেই কেষ্টর সঙ্গে দেখা করতে পারতেন দিদি। কিন্তু কেন করলেন না? তার নেপথ্যে দু’টি কারণ রয়েছে। এক, জেলে থাকাকালীন বারংবার প্রভাবশালী তত্ত্বে অনুব্রত মন্ডলের জামিন খারিজ হয়ে গিয়েছে। ফলে আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে দেখা করলে প্রমাণ হয়ে যেত কেষ্ট সত্যিই প্রভাবশালী। দুই, এই মুহূর্তে আরজি করের ঘটনা নিয়ে বেশ কিছুটা ব্যাকফুটে রাজ্য সরকার। তাছাড়াও উঠে আসছে নানান দুর্নীতির প্রসঙ্গ।
এমতাবস্থায় জেল ফেরত একজন নেতাকে নিয়ে দলীয় কর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করবেন সেটা কিছুটা হলেও স্বাভাবিক, কিন্তু দলের সর্বোচ্চ নেত্রী হয়ে একেবারে প্রথম দিনই একজন অভিযুক্তকে অতিরিক্ত প্রাধান্য দিলে সেটার কিন্তু একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ত শাসকদলের ওপর। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ সুকৌশলে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে দেখা করলেন না। তবে নিশ্চয়ই তাঁদের মধ্যে ফোনে কথা হয়ে থাকতে পারে।
২০২২ সালে যখন অনুব্রত গ্রেফতার হয়েছিলেন তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, এটা পুরোপুরি ষড়যন্ত্র, ও বেরিয়ে আসবে, ওকে বীরের সম্মান দিয়ে ফিরিয়ে আনব! সেই অর্থে তো মুখ্যমন্ত্রীর কথাই মিলেছে। তিনি নিজে বীরের সম্মান দিয়ে ফিরিয়ে আনবেন একথা তো বলেননি। দলীয় কর্মীরা আজ যে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে অনুব্রতকে বরণ করে নিজের ঘরে ফেরালেন তা কোনও বীরের প্রত্যাবর্তনের চেয়ে কম নয়। আগামী দিনে বীরভূম জেলার দায়িত্ব অনুব্রত মণ্ডলকেই দেবেন তৃণমূলনেত্রী, এই বিষয়টাও কার্যত নিশ্চিত।


তাই আজ দেখা সাক্ষাৎ না হলেও আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের একবার প্রমাণ করে দিলেন, তিনি কেন এত বড় রাজনীতিবিদ। তাঁকে নিয়ে কোনও কিছুই আগে থেকে প্রেডিক্ট করা যায় না। তিনি সম্ভাবনার উর্দ্ধে। তিনি চিরকাল ব্যাকফুটে থেকেই চালিয়ে খেলতে অভ্যস্ত!








